শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার চর দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মো. শিমুল হোসেন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া পদ্মার চরে এ ঘটনা ঘটে। সরকারের পতনের পর আড়মবাড়িয়া এলাকার আকছেদ মৃধার ছেলে স্থানীয় যুবদল কর্মী জুয়েল মৃধা সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদারের ভাই ও ভাতিজাদের তাড়িয়ে আড়মবাড়িয়া চরের সরকারি খাস জমির কয়েকশ একর জমি দখলে নেন। এরপর সেখানে খেসারি চাষ করেন। খেসারিসহ সেই জমি দখল নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকার যুবদল নেতা মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি সোহান হোসেন বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু। এই নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল।
গুলিবিদ্ধ মো. শিমুল হোসেন আড়ামবাড়িয়া এলাকার মো. রফিকের ছেলে। ক্যাডার জুয়েল হোসেন ঐ এলাকার আকছেদ মৃধার ছেলে এবং বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ঐ এলাকার বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। এরমধ্যে একটি বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু গ্রুপ এবং ওপরটি জুয়েল মৃধার গ্রুপ। এরমধ্যে একজন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের কর্মী এবং অপরজন জাকির হোসেন জুয়েলের কর্মীসমর্থক ।
সূত্র মতে, কয়েকদিন আগে জুয়েল চরের সেই জমির খেসারিসহ ঘাসের মাঠ মহিষকে খাওয়ানোর চুক্তিতে কুষ্টিয়ার রায়টা এলাকার রেজাউল বেপারীর কাছে ১০-১২ লাখ টাকায় বিক্রয় করে দেন। ঘটনার দিন বিকেলে ল্যাংড়া বিপু দুটি নৌকা করে সশস্ত্র ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে খেসারিসহ জমি দখল করতে যায়। এ সময় রেজাউল বেপারী রাখালদের নিয়ে খেসারির জমিতে মহিষকে চরাতে ছিলেন।
তখন ল্যাংড়া বিপু তাকে আটক করে নৌকায় তুলেন। এই খবরে জুয়েলও সশস্ত্র লোকজন নিয়ে নৌকা করে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। সশস্ত্র গ্রুপ দুটো পদ্মা নদীর মধ্যে ও আড়মবাড়িয়া নদীর ঘাটে অন্তত ৫০-৬০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বিপুল পক্ষের লোক শিমুল। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সরকার পতনের পর থেকে ল্যাংড়া বিপু আড়মবাড়িয়া পদ্মা নদীর চর থেকে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। একইসঙ্গে আড়মবাড়িয়া, লালপুরে ফেন্সিডিল, ইয়ারা বিক্রয় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। আড়মবাড়িয়া বাজারেও অবৈধভাবে খাজনা আদায় করছেন। এসব ঘটনায় চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে আড়মবাড়িয়া বাজারে নিজ কার্যালয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতও হন বিপু।
স্থানীয় দোকানদার মো. বাচ্চু বলেন, এই চরে এ সময় প্রায় ৫ শতাধিক মহিষ চরানো হয়। সন্ধ্যায় হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ পেয়ে আমরা ভয় পেয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেই। শুনেছি খেসারি বেচা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। একজনের নাকি গুলিও লেগেছে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে গোলাগুলিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করছে। গুলিবিদ্ধ শিমুল পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।