শুক্রবার, ২৪ Jul ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আইরিন পারভিন এর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয়ের নামে ভুয়া বিল ভাউচারে ওই প্রধান শিক্ষিক হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা জানান, ১১৬নং আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্কুলে নিয়মিত হাজির না হলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকে তার। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় ফি বাবদ রয়েছে তার অবৈধ আয়ের আরেক উৎস। তার এ অনিয়মের বিষয় সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকরা মুখ খুললে তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়।
অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষিকা তিনি নিজেও সকালে ও বিকালে স্কুলের ভিতরে কোচিং বাণিজ্য করে থাকেন। স্থানীয়রা বলেন, প্রধান শিক্ষিকা তিনি সব সময় সাংবাদিকের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অপব্যবহার করতেন। তার সত্য ছায়ায় অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ঠিক মতো আসলেও ক্লাসে পাঠদান করায় না। নির্ধারিত সময় কোন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা জায়, (৪ ডিসেম্বর) বেলা ৩ টায় বিদ্যালয়ের মেইন গেটে তালা দিয়ে ক্লাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কোচিং করায় সহকারী শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খান। জানতে চাওয়া হয় আপনাদের প্রধান শিক্ষক কোথায় তিনি জানান, সে এই মাত্র কোচিং শেষ করে আপনাদের সামনে দিয়ে বের হলো তিনি তো প্রধান শিক্ষিকা আইরিন পারভিন। ক্লাসের মধ্যে দেখা মিলে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চানতে চাওয়া হয় তোমরা কি করো, সবাই বলেন, আমরা গিয়াস উদ্দিন স্যারের কাছে কোচিং করি। তারা বলেন, আমরা সকালেও কোচিং করি স্কুলের সকল স্যারেরা কোচিং করায় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় আর ১০টায় শেষ শেষ হয়। আবার বিকালে স্কুল ছুটির পরেও আমরা পড়ি। তারা আরও বলেন, আমরা পরীক্ষার ফি দিয়েছি ৫০ টাকা সবাইর কাছ থেকে নিয়েছেন স্যারেরা। শিক্ষার্থীরা বলেন,আমাদের গাইড বাধ্যতামূল করেছেন প্রধান শিক্ষিকা।
ক্লাস টাইমে, ক্লাস রুম ঝাড়ু দেয় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। ময়লা আবর্জনায় ভরা ক্লাস! স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘ বছর একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন আইরিন পারভিন। তার ক্ষমতা এত যে, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা কিছু বলতে পারছেন না। তারা আরোও বলেন, আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে র্দীঘ বছর গুলোতে স্কুলের বরাদ্দ আত্মাসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষিকা আইরিন পারভিন ।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান ঠিক মতো হয় না। প্রধান শিক্ষিকা কোচিং বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। স্কুলের সকল শিক্ষকরা কোচিং করায়,তারা স্কুলের পাঠদান করায় না বলে জানান স্থানীয়লা। তারা বলেন, স্কুলের পড়ালেখা ধ্বংশ হয়েছে প্রধান শিক্ষিকার কারনে। পাশের ক্লাস রুমে অসংখ্য প্রাথমিকের নতুন বই। এগুলোতে দেখা জায়, ২০২১,২০২২,২০২৩ ও ২০২৪ সালের পাঠ্যপুস্তক বই। অনেক বই নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, এতো বই এই রুমের মধ্যে আমরা স্থানীয়রা জানিনা। রুম ভর্তি বই দেখে সবাই অবাক,কি করে বছরের পর বছর বইগুলো রুমে রেখে নষ্ট করেছে। তারা বলেন, আসলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অভিভাবকহীন দেখভালের কোন লোক নেই, তাই সরকারি বইগুলো নষ্ট করে ফেলেছে অসাধু শিক্ষকরা। উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই জন্যই বাচ্চাদের দেই নাই। বিদ্যালয়ে ঠিক মতো লেখাপড়া নেই, পাশাপাশি তারা আয়ের উৎস হিসেবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে কোচিং বাণিজ্য করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন অসাধু শিক্ষকরা।
কোচিং করানো উপস্থিত সহকারী শিক্ষক গিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, সকল শিক্ষকরাই কোচিং করায়। তাই আমি করাই। ক্লাস রুমে নতুন বই এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বইগুলো প্রধান শিক্ষিকা রেখেছেন আপনারা তাকে জিজ্ঞেস করেন বলে চলে জায়। প্রধান শিক্ষিকা আইরিন পারভিনকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলি বলে কল কেটে দেয়। পরে তাকে ফের কল দিলে সাংবাদিক পরিচয়ে একজন লোক বলে আপনাদের কি কাজ স্কুলে। স্কুলে সকল বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানাতে চাইলে তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জ সকল স্কুলে বই পেয়েছে অবশিষ্ট বইগুলো আমরা ওই বিদ্যালয়ে রেখেছি বলে ফোন কেটে দেয় তিনি।
অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, স্কুলেই তো বই থাকবে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানন বলে ফোন কেটে দেয়।