মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>> গাজাযুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বর্বরতা চলেছে। চার শতাধিক বিক্ষোভকারীকে উচ্ছেদের জন্য আলটিমেটাম দিয়ে শত শত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) অবরোধ উচ্ছেদ করেছে। রাবার বুলেট ও ফ্ল্যাশব্যাং ব্যবহার করে বুধবার পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়েছে। এ সময় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে পিঠমোড়া করে বেঁধে নিয়ে গেছে পুলিশ।
পুলিশ এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছিল। এরপর কয়েক ঘণ্টার অচলাবস্থা শেষে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের তাঁবুতে প্রবেশ করে। সহিংস ইসরায়েলপন্থি উগ্র জনতার তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় পরে এ ঘটনা ঘটল। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্কের সিটি কলেজের প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে নানা সময় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কর্তৃপক্ষ বাধা না দিলেও এবার ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চরম অসহিষ্ণুতা দেখাচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে ইউসিএলএ ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের ওপর উগ্র ইসরায়েলপন্থিরা আক্রমণ করে।
বুধবারের পুলিশের অভিযানের পর প্রায় সব বিক্ষোভকারীকে ইউসিএলএ ক্যাম্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় কিছু বিক্ষোভকারীকে ভয়ার্ত দেখালেও অন্যরা যতদিন সম্ভব অবস্থান বজায় রাখার জন্য সত্যিই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন বলে আলজাজিরা জানায়। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘শেম অন ইউ’ বলে চিৎকার করছিলেন।
কাতার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হাসান বারারি যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রমবর্ধমান মৌখিক আক্রমণ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন না। তারা তাদের উদ্দেশ্য সফল না করা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, পুলিশ গত ১৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফিলিস্তিন সমর্থক ১৬০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মুখ খুলেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের অধিকার আছে। তবে ক্যাম্পাসে অবশ্যই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
বুধবার উত্তর ও মধ্য গাজাজুড়ে সমাবেশ করে মার্কিন কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। দেইর আল-বালাহতে আল আকসা শহীদ হাসপাতালের সামনে ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরা সমাবেশে গণহত্যা বন্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার বহন করেন। এ সময় ডা. সাদ আবু শারবান সিএনএনকে বলেন, অন্যান্য দেশের প্রতিবাদকারীরা বিশ্বকে দেখাচ্ছেন গাজা উপত্যকায় এখন কী ঘটছে।’