শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ ডেস্ক >> সদ্য কারামুক্ত যুুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের হৃদযন্ত্রের অবস্থা বেশি ভালো নয়। চিকিৎসকদের ভাষায় তার দেহে যেন একটা বোমা বাধা আছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেড় বছর ধরে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন সম্রাট। তিনি আসামি হলেও আমাদের কাছে একজন রোগী। সেই হিসেবেই আমরা দেখেছি তাকে। তার ৩১-৩৩ শতাংশ হার্টের ফাংশনাল ছিল। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক বলা যাবে না। এমনকি বিছানা থেকে টয়লেটে যেতেও কষ্ট হতো তার। আমরা শঙ্কায় ছিলাম যে কোনো কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না।’
তার সবশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে আগামী সোমবার মেডিকেল বোর্ড বসবে। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সেখানে। তবে তার পরিবার চাইলে চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য কোথাও নিতে পারে।
সর্বশেষ বুধবার তিন শর্তে দুই মামলায় জামিন পান সম্রাট। এর মধ্যে রয়েছে তার অসুস্ততার চিকিৎসার তথ্য নিয়মিত আদালতকে দিতে হবে, বিদেশ যাওয়া যাবে না ও নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে মোট চার মামলার অন্য দুটিতে আগেই জামিনে পেয়েছিলেন তিনি। এখন তার মুক্তিতে আর বাধা নেই।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাকে (সম্রাট) ছাড়া যাবে কি না, দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন। স্বজনেরা চাইলে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য তাকে নিতে পারেন।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান মাসুম মন্ডল বলেন, ‘সম্রাটের হার্টের এমন কিছু ক্রিটিক্যাল অবস্থা আছে, যেকোনো সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া আছে ভাল্বের সমস্যা। দূর থেকে অনেকটা সুস্থ মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে দেখলে বোঝা যায় ওনার দেহে যেন একটা বোম বাঁধা রয়েছে।’
সম্রাটকে আরও এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে জানিয়ে ডা. হারিসুল হক বলেন, ‘তার (সম্রাটের) ভালো চিকিৎসা দরকার। যেহেতু এখন আইনি বাধা উঠে গেছে, তাই চাইলে স্বজনেরা বাইরে চিকিৎসা করাতে নিতে পারেন। আগামী সোমবার আরও একটি বোর্ড সভা বসবে। সেখানেই আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
রাতের বেলায় সম্রাটের হার্টের ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে জানান ডা. মোহাম্মদ রায়হান মাসুম মন্ডল। বলেন, ‘তাকে কারাগারে নিতে বিভিন্ন সময়ে জেল কর্তৃপক্ষ কাগজ পাঠিয়েছে। আমরা কখনো বলিনি যে নিতে পারবে না। আমরা কেবল রোগীর অবস্থা জানিয়েছি।’
ডা. মোহাম্মদ রায়হান আরও বলেন, ‘আমরা পুরো এক মাসের একটা রিপোর্ট তৈরি করব। মেটালিক ভাল্ব কী অবস্থায় আছে সেটি দেখতে হবে। পরিবার চাইলে বাইরেও নিতে পারবে।’
সম্রাটের চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের হাসপাতালে সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বলেন, ‘ইলেকট্রিক ভাল্বের যে আধুনিক প্রযুক্তি দরকার, সেটি এই হাসপাতালে নেই।’ এই প্রযুক্তিতে আমাদের এখনো দুর্বলতা রয়েছে।’
২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে র্যাবের অভিযানে দেশে ক্যাসিনো কারবারের বিষয়টি সামনে আসে। ওই ক্লাব পরিচালনা করতেন যুবলীগের সে সময়ের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি ছিলেন সম্রাটের ঘনিষ্ঠজন। পরে বেরিয়ে আসে ঢাকায় ক্যাসিনো কারবারে হাত রয়েছে যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের। এরপর ১৭ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরেক যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারের সময় সম্রাট ও আরমান মদ্যপ ছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল র্যাব। তাদের কাছে বিদেশি মদ ছিল। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন তখন। পরে সম্রাটের নামে চারটি মামলা হয়।