সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
মামুন আহম্মেদ >> বানারীপাড়া থানার চৌকশ পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ গভীর রাতে এক অসহায় মুমূর্ষু অশীতিপর বৃদ্ধা নারীকে থানার পুলিশের পিকাপে ফেরিঘাট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত প্রায় ১২টার দিকে চলমান কঠোর লকডাউনে চারিদিক তখন নীরব ও নিস্তব্ধ। শ্রাবণের হালকা বৃষ্টিস্নাত রাতের এক ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করছিল। প্রকৃতির এমন প্রতিকূলতার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন থেকে স্ট্রোকের মুমূর্ষু রোগী ফজিলাতুন্নেছাকে (৭০) নিয়ে তার স্বজনরা ট্রলার যোগে বানারীপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাটে পৌঁছান। গভীর রাতে ফেরিঘাট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার কোনো যানবাহন খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে তীর্থের কাকের মতো রোগী নিয়ে ফেরিঘাটে বসে রইলেন তারা। সংবাদটি শুনলেন ফেরিঘাটের অদূরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ।
দ্রুত থানার পিকাপ নিয়ে হাজির হন ফেরিঘাটের সেই মুমূর্ষু রোগীর কাছে। মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ পরম মমতায় গাড়িতে নিজের সিটে বসালেন রোগীকে। পৌঁছে দিলেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষে। রোগীর স্বজনরা তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারা পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাফর আহম্মেদের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করলেন। পুলিশ যে মানুষের বন্ধু তা আবারো প্রমাণ করলেন চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ। এর আগেও তিনি বহুবার মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনায় এসেছেন এবং বানারীপাড়াবাসীর ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার চৌকশ পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ জানান, পুলিশ জনগণের সেবক। আমি যা করেছি এটা আমাদের (পুলিশের) দায়িত্বেরই অংশ। আমরা সবসময় মানুষের পাশে আছি এবং থাকবো।
উল্লেখ্য, মো. জাফর আহম্মেদ সম্প্রতি বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।