সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক ॥ ঈদের বকশিশ দেবেন, স্যার। দারোয়ান বাসায় ঢুকতে দেয় না, বকশিশ চাইতেও পারি না। কয় টাকাই বেতন পাই। যা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। প্রতি বছর দুই ঈদে যে বোনাস পাই, তা দিয়ে সারা বছর কোনো মতে চলতাম। এইবার আমাদের ঈদ বকশিশে ভাগ মেরেছে করোনা।’
রোববার (২৪ মে) এভাবেই নিজের আসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ঢাকা সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মী আজিজুল ইসলাম।
এক ছেলেসহ তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে আজিজুল ইসলাম রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন। তিনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বনশ্রী এলাকায় বাসায় বাসায় গিয়ে তিনি ময়লা সংগ্রহ করেন। পরে তা বড় ডাস্টবিনে ফেলেন। দিনের কমপক্ষে আট ঘণ্টা তার ময়লা আবর্জনার সঙ্গেই বসবাস।
প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা পান এ ময়লা পরিষ্কার করে। বাসা ভাড়া, সংসার খরচ, বাচ্চার লেখা-পড়া খরচ ও বাবা-মা’র দেখভাল করতেই মাসের টাকার টান পড়ে। ফলে সারা বছর কিছুটা ধারের ওপরই চলতে হয়। আর বছরে দুই ঈদে বাসায় বাসায় গিয়ে যা বকশিশ পান তা দিয়ে সারা বছরের ঘটতি পূরণ করা হয়। তবে এ বছর সেই ঘটতি আদৌ পূরণ করা সম্ভব হবে কি-না তাই নিয়ে সন্ধিহান এ পরিচ্ছন্নতা কর্মী।
আজিজুল ইসলাম অনুসন্ধান ২৪কে বলেন, সারা বছর রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের মধ্যেও এলাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে ময়লা আবর্জনা নিয়ে আসি। আর এখনতো করোনার যুগ। এ কাজে এখন জীবনের ঝুঁকি। সারা দিন এতো খাটুনির কারণে রোজাও রাখতে পারি না। তবে পরিশ্রম যাইহোক, বছরের দুই ঈদে বাসায় বাসায় গিয়ে ভালো পরিমাণ টাকা বকশিশ পাইতাম। তা দিয়ে সারা বছর কোনোমতে পার করতাম। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাস আমার ঈদ বোনাসে ভাগ মারেছে। করোনার কারণে অনেক দারোয়ান বাসায় ঢুকতেই দিচ্ছে না। ফলে বকশিশ পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, অন্যান্যবার দুই ঈদের আগে বিভিন্ন বাসা থেকে মোট ৩০-৩৫ হাজার টাকা বকশিশ পেতাম। এ বছরের ঈদে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার টাকা পেয়েছি। এবার ভাইরাসের কারণে ধরা খেয়েছি। সারা বছর ধার-দেনা করেই চলতে হয়। এ বছর সে ঘাটতি কীভাবে মেটাবো তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। করোনার কারণে আমার মতো অনেক কর্মী এ অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
এ পরিচ্ছন্নতা কর্মী আরও বলেন, বাসা-বাড়ির ময়লার ভেতর থেকে অনেক সময় ভাঙারি জিনিসপত্র, প্লাস্টিক, লোহা ও কাঁচ পাওয়া যায়। সেগুলো বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু গত দুই মাস ধরে ওই জিনিসপত্রগুলো কাজে আসছে না। করোনায় অধিকাংশ ভাঙারির দোকান বন্ধ। আর যেসব দোকান খোলা রয়েছে, সেখানে মহাজনরা মালপত্র কেনে না। তাই বাড়তি আয় নেই। সব মিলিয়ে করোনার কারণে সংসারে টানাপোড়েন বেড়েছে। আল্লাই ভালো জানেন এভাবে আরও কয় মাস কাটাতে হবে।
জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মী আজিজুল ইসলামের মতো রাজধানীর দুই সিটিতে কাজ করেন ১৪ হাজার ৯শ কর্মী। যাদের মধ্যে সাত হাজার ২০০ জন বেসরকারি ও বাকিরা সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মী। তারা এ করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীতে বসবাসকারীদের বাসায় বাসায় গিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকেন।
অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই গৃহস্থালি বর্জ্য নিয়ে দিনভর কর্মযজ্ঞ তাদের। সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও তাদের সুরক্ষায় বিশেষ পোশাক তো দূরের কথা, নেই মাস্ক ও গ্লাভসও।
তাই নগরীর সুস্থতা নিশ্চিত করতে যে মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তাদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।