শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: চলমান করোনাভাইরাসের মহামারী। যা পুরো বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। এটি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ছিল না কোনো দেশেরই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পোশাক শ্রমিকরা।
চলছে রমজান সামনে ঈদ, পকেটে নেই টাকা, ঘরে নেই খাবার। তাই চাকরি বাঁচাতে দল বেঁধে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধাপে ধাপে পোশাক কারখানা চালু করায় জীবিকার তাগিদে কাজে যোগ দিচ্ছেন শ্রমিকরা।
এ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক পোশাক কারখানা রয়েছে। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিকরা এখানে এসে কাজ করছেন।
ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সকল শিল্প কারখানার ভেতরে নারী-পুরুষ দল বেঁধে ও গাদাগাদি করে ঢুকেছে পোশাক শ্রমিকরা।
বিজিএমইএ সিদ্ধান্ত মোতাবেক বলা হয়েছিলো দূর-দূরান্ত থেকে কোন শ্রমিক না এনে সীমিত পরিসরে কারখানাগুলো চালু করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টোটা। পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষরা দূরের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছে।
যার ফলে চাকরি হারানোর ভয়ে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিক্সা, ভ্যান, রাতের আঁধারে ট্রাকে করে। এমনকি পায়ে হেঁটে শত শত নারী শ্রমিক আসছে কর্মস্থলে।
এদিকে ভালুকা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা এসব কর্মকাণ্ডে আতঙ্কিত। ভালুকার সচেতন মহল বলছেন, শ্রমিকদের ও কারখানার মালিকদের এই তৎপরতায় উদ্বিগ্ন এবং তাঁরা মনে করেন এই উপজেলাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে গেল। আমরা শুধু অসহায়ের মত দেখতেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানায়, ভালুকা স্কয়ার ফ্যাশনে কাজ করেন তিনি। গত ৩০ এপ্রিল পঞ্চগড় থেকে ভালুকায় এসেছে বহু কষ্টে। চাকরি হারানোর ভয়ে কর্মস্থলে যোগদান করে। এমনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে ফিরেছে।
স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক মো. ফারুক মিয়া জানায়, কি করবো ভাই? পেটের তাগিদে কাজে যোগ দিতে হচ্ছে। পরিবারের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। পকেটে নেই টাকা, ঘরে নেই খাবার কি করে চলবে সংসার।
ভালুকা স্কয়ার ফ্যাশনের প্রশাসনিক শাখার জিএম মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা রবিবার থেকে ফ্যাক্টরি চালু করেছি। আমরা দূর-দূরান্তের শ্রমিক না আসতে বলছি। কিন্তু কেউ যদি চুপিসারে চলে আসে। আমাদের কি করার আছে। শ্রমিকরা স্থানীয়ভাবে ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে। আমরা শ্রমিক পরিবহনের সব গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছি। যারা ডরমেটারীতে থাকে তারা আর যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা আছে। তাছাড়া আমরা সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে ফ্যাক্টরি চালাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের পারিবারিক হিস্ট্রি নেওয়া হচ্ছে। কেউ অসুস্থ কিনা, জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, আছে কিনা তাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ১০০% থার্মাল টেস্ট করাসহ হাত ধোয়া ও জীবাণু নাশক স্প্রে করে ফ্যাক্টরিতে ঢুকাচ্ছি। আর ভেতরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের কাজ করতে দিচ্ছি। বর্তমানে আমার কারখানায় ৪০% শ্রমিক রয়েছে।
ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ওযায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রচুর পোশাক শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে যান। তারা রিক্সা, ভ্যান, ট্রাকে করে ও পায়ে হেঁটে গেছে। আমরা তাদেরকে ট্রাক থেকে নামিয়ে দিলেও তারা পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলে গেছে। এসব শ্রমিকদের বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তারা বলেন, ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন থানা, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর থেকে তারা আসছে।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার(এসপি) মো. সাহেব আলী পাঠান জানান, উপজেলায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে এই পর্যন্ত ৮১টি পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিক না আনতে তাদেরকে বার বার বলা হচ্ছে। আমরা যতটুকু দেখছি তারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করছে। কিন্তু কারখানায় ঢুকতে ও বাহির হতে সময় শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্ব বজায়ে মানছে না। তবে কারখানার ভেতরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে কর্তৃপক্ষ। যেসব এলাকা বেশি করোনা আক্রান্ত যেমন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর হতে তাদেরকে কারখানায় শ্রমিক না আনতে কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।