সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন নিউজ :: নারী ও শিশুদের প্রতি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে পুরুষ ও কিশোরদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের ইতিবাচক ভূমিকা ছাড়া এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। বরগুনায় সুশিল সমাজের সাথে এক মতবিনিময় সভার বক্তারা এসব কথা বলেন।
এসময় নারীর নিরাপত্তার উন্নয়ন, সহিংসতার শিকার নারীদের আইনি সেবা পাওয়ার সহজপ্রাপ্যতা, সহিংসতা রোধে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সে বিষয়গুলো সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত কার্যক্রমের উপর তাগিদ দেয়া হয়।
শনিবার ( ৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেন্ডারভিত্তিক ন্যায়বিচারের প্রচার: পুরুষ এবং কিশোরদের সংযুক্তিকরণ নেটওয়ার্ককে শক্তিশালীকরার মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতাহ্রাসকরণ প্রকল্পের উদ্যোগে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থ্যা প্রতীকি যুব সংসদ। উন্নয়ন সংস্থ্যা ব্র্যাক ও এনগেজ মেন অ্যান্ড বয়েজ নেটওর্য়াকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ।
বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তারের সভাপত্বিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা সুলতানা মুন্নী।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ব্র্যাক সমন্বয়কারী মো: মারুফ পারভেজ এবং মূল তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন প্রতীকি যুব সংসদের নির্বাহী প্রধান সোহানুর রহমান। তথ্যপত্রে বলা হয়, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার একটি বড় কারণ পুরুষের ক্ষমতা ও পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি । এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সবাইকে বিশেষ করে পুরুষ ও কিশোরদের ভূমিকা রাখতে হবে। সহিংসতা কমাতে হলে ছোট বয়স থেকেই শিশুদের নারীর প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে নারীর প্রতি সহিংসতা রুখতে সবাইকে সোচার হতে হবে। সুযোগ থাকলে নারীরা যে সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারেন, সেটি তাঁরা বারবার প্রমাণ করেছেন।
নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করে এমন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সঠিক পরিসংখ্যান এবং নাগরিক সমাজের সাথে মিডিয়ার কার্যকর সম্পর্কের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার প্রচার এবং অবদমনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে কীভাবে সঠিক যৌনচর্চার মাধ্যমে সহিংসতা পরিহার করা যায় এই বিষয়ক প্রচারাভিযান তর“ণদের মধ্যে পরিচালনা করার সুপরিশ করেন বক্তারা ।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বির“দ্ধে পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্তকরণে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসতে আহবান জানানো হয়।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সঞ্জীব দাস, বরগুনা জেলা পুলিশের ‘জাগরণী’ কেন্দ্রের ইনচার্জ এনআই জান্নাতুল আরেফিন, পাথরঘাটা নারী প্রতি সহিং সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মুনিরা ইয়াসমিন বরগুনা ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো: মুসা, বিটিভির জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, সুশীলনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, সমাজকর্মী চিত্তরঞ্জন শীল, আ: রব ফকির, সুখরঞ্জন শীল. লোকবেতারের স্টেশন ম্যানেজার মনির হোসেন কামাল প্রমুখ।