সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে যদি আওয়ামী লীগের মতো কাজ করে তাহলে ১৫ দিনও টিকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচন বিএনপির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।
জনগণকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করতে হবে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ জিয়া’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি প্রমাণ করেছে, তারা বীরের জাতি।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবে, আওয়ামী লীগ কখনো চিন্তা করেনি। একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা ভয়াবহ গণহত্যার মাধ্যমে এ দেশকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। এ সময় কোনো রাজনীতিককে পাওয়া যায়নি।
তখন চট্টগ্রামে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে এ দেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা এনেছেন। কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অন্ধকারে রয়ে গেছেন।’
নির্বাচন ঘোষণার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ড. ইউনূস অভিজ্ঞ মানুষ হলেও তার উপদেষ্টা পরিষদের অনেকের রাষ্ট্র চালানোর যোগ্যতা নেই। কেউ কেউ গদি ছাড়তে চাননি।
কেউ কেউ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।’
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেনি। গণতন্ত্রকে তারা ছুড়ে ফেলে দিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল।’
মেজর হাফিজ আরো বলেন, ‘আবার যারা স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, তারা বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ লোকজন বসিয়ে দিয়েছে। তারা পিআর সিস্টেমে ভোট চায়। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারবে না। কল্পকাহিনি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। জুলাই সনদে পাকিস্তান গঠনের কথা নেই বলে অভিযোগ তুলছে। অথচ এই জামায়াতই তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র চায়নি। আমরা বর্তমান পদ্ধতিতেই নির্বাচন চাই। জনগণ সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়।’
মুক্তিযোদ্ধা দল খুলনা মহানগরীর সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা প্রমুখ।