শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যপুস্তক অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বইগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারনে সরকারের বিপুল অংকের অর্থ গচ্ছা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর বই উৎসব করার পর বেচে যাওয়া বিপুল পরিমান পাঠ্যপুস্তক উপজেলার আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি পরিত্যাক্ত রুমে মজুদ করে রাখা হয়েছিলো সরকারি বইগুলো। কিন্তু যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় পাঠ্যপুস্তকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি বইয়ের চাহিদা দেওয়ার কারণে প্রতি বছর অতিরিক্ত পাঠ্যবই পড়ে থাকছে। অতিরিক্ত বইগুলো শিক্ষা অফিসার বরাবর ফেরত না দিয়ে, এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে এসব বই, এর কারণে সরকারের কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, (৪ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ে মেইট গেটে তালা দিয়ে ভিতরে কোচিং বাণিজ্য করছে সহকারী শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন খান। তার উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, ১৩শত টাকা দিয়ে সকালে প্রধান শিক্ষিকা আইরিন পারভিন ও বিকালে গিয়াস স্যারের নিকট কোচিং ক্লাস করেন তারা। তারা আরও বলেন, স্কুলের সকল শিক্ষকরাই কোচিং করান। উপস্থিত গিয়াস উদ্দিন খান বলেন, প্রধান শিক্ষিকা নিজেও পরান তাই আমরা সহকারী শিক্ষকরাও পড়াই। তার সাথে কথার ফাকে দেখা জায়, পরিত্যাক্ত রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিপুল পরিমান পাঠ্য পুস্তক। এছাড়াও দীর্ঘদিন স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে পাঠ্যপুস্তকগুলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক জানান, এ পুস্তকগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের থাকলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে এভাবেই দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে বইগুলো। তারা বলেন, এই বিদ্যালয়ে কোন পড়া লেখা হয় না। শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য নিয়ে টাকা আয় করার ধান্ডায় থাকেন। তারা আরও বলেন, আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বছরের শুরু থেকেই কোচিং করতে বাধ্য করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, আইরিন পারভিনকে ফোন দিলে তিনি এক সাংবাদিকের ভাবি পরিচয় দিয়ে মোবাইলের কল কেটে দেয়।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বই বিতরণের পরে অতিরিক্ত বইগুলো ওই বিদ্যালয়ে রাখা হয়। জানতে চাওয়া হয়, এগুলো বছরের পর বছর রাখার নিময় কি আছে! তিনি বলেন, উপজেলার এমন কোন বিদ্যালয় নেই যে পাঠ্যপুস্তক পায়নি। অতিরিক্ত বইগুলো আমরা ওই বিদ্যালয়ে রেখে দিয়েছি। প্রয়োজনের চেয়ে চাহিদা বেশি দেওয়ার কারন চানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত চাহিদা দিয়ে বই মজুদ করা অপরাধ। তিনি বলেন, এতে সরকারের অর্থ নষ্ট হয়।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে বই তো বিদ্যালয়েই থাকবে। জানতে চাওয়া হয় অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা দিয়ে পাঠ্যপুস্তক নষ্ট করা কি ঠিক! তিনি বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো।