মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: বরিশাল সদর হাসপাতালের নতুন বছরের এমএসআর এর টেন্ডার নিয়ে লুকোচুরি খেলা খেলেছ সিভিল র্সাজেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর হাসপাতালের চিকিৎসার মালামাল ক্রয়ের জন্য অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে টেন্ডার হয়। কিন্তু কত টাকা বরাদ্ধ তা সিভিল র্সাজেন মনোয়ার হোসেন ও সদর হাসপাতালের তথ্য প্রধানকারী ডাক্তার মো. দেলোয়ার হোসেন নিজেরাই জানেন।
তারা মিলে গোঁপ গোপনে মিডিয়াকে আড়াল করে কিছু সংখ্যক পুলিশ নিয়ে টেন্ডারের কাজ শেরে ফেলে। তবে তাদের লুকোচুরির বিষয় হাসপাতালের অন্য অন্য স্টাফদের মুখে মুখে শুনা যায়। টেন্ডারের বিষয় সিভিল সার্জেন এক প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা মিডিয়াকে খবর দেয়নি কারন অল্প কিছু টারার বাজেট এসেছে। কিন্তু কত টাকা তাও তিনি জানেনা।
তিনি আনুমানিক বলেন, এক থেকে দেড় কোটি টাকার মতো। আসলে কি তাই? যদি তাই হয় তা হলে মিডিয়াকে জানাতে সমস্যা কি! জবাবে বলেন, বরিশালে অনেক পত্রিকা এক জনকে জানালে সব পত্রিকায় দিতে হবে তাই আমি কাউকে না জানিয়ে টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করেছি।
তিনি আরো জানান, জাতীয় একটি পত্রিকায় ও বরিশালের স্থানীয় পত্রিকায় দিয়েছি। কিন্তু সেই পত্রিকা দুটি নাম জানেন না সিভিল সার্জেন ও তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ দেলোয়ার হোসেন। সদর হাসপাতালে শুধু টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম নয়! অনিয়ম উঠে এসেছে, ইমার্জেসী বিভাগ, এ-ক্সে বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, ঔষধ ডেলিভারি বিভাগ খাদ্য তালিকা এবং রোগী ভর্তী নিয়ে তালবাহানাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিযোগ, এমার্জেন্সী বিভাগে বেশ কয়েকজন আহত রোগীসহ শিশুদের সুন্নতে খাৎনার পর্যায়ক্রমে কাজ চলছিল। সেবা শেষেই অনেকটা চাপের মুখের দৃশ্য, যার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেটে পুরতে দেখা যায়। নির্দিষ্ট হারে টাকা নেয়ার কথা থাকলেও এই নিয়ম যেন হাসপাতলটিতে উপেক্ষা শব্দের সাথে মিলেমিশে বৈধতায় রূপ নিয়েছে।
সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসেনকে বাহির থেকে দেখতে ষোলয়ানা খাটি এবং নামাজি বলে মনে হলেও তার কথাবার্তায় চাতুরতার প্রমান পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদক হাসপাতালে তার উপস্থিতির খবর পেয়ে মুখোমুখি হলে আন্তরিকতার সাথে কথাপকথনে কোটি টাকার একটি টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনিই টেন্ডার দেখভাল করছেন, অথচ তিনি জানেন না টেন্ডারের অংক কত।
সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের উপকরন সরবরাহের নিমিত্তে এই টেন্ডারের সিডিউল ড্রাফিং করা হয়। পাচঁ গ্রুপের এই কাজে কতজন ঠিকাদার সিডিউল জমা দিয়েছে তারও সঠিক উত্তর নেই। সিভিল সার্জেন মনোয়ার হোসেন ও হাসপাতালের তথ্য প্রধানকারী ডাক্তার দেলোয়ার হোসেনের কাছে
নিশ্চিত হওয়া গেছে, কত জন রোগী এমাজেন্সিতে আসলেন তার নথি পত্রে নাম উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও এই নিময় মানা হয়না ঐ টাকা নেয়ার কারনে। রোগী বেশি দেখানো হলে টাকার পরিমানও বেশি অনুমান করবে আবাসিক কর্মকর্তা, এমনটি ভেবেই এই কৌশল নেয়া হয়।
আবাসিক কর্মকার্তা এই অর্থে ভাগ পান কিনা তা নিশ্চিত করে কেউ না বলতে পারলেও হাসপাতালের একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছেন, তিনি সবই জানেন। সুবিধাও নেন। আবার ইতিবাচক ভুমিকায়ও আছেন। এমাজেন্সিতে ডাক্তার নেই, চলছে সহকারী দিয়ে। সাথে বহিরাগত কিছু যুবকদের কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন এই প্রসংঙ্গটি জানেন কিনা সে বিষয় তার মতামত জানতে চাই তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্ন করার আর ইস্যু পেলেন না।
গত ৩ বছর ধরে এক্স্রে-মেশিনটি বিকল হয়ে পরে রয়েছে, তা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। এরও রহস্য পাওয়া গেছে। মুলত হাসপাতাল সম্মুখে বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের সাথে চুক্তি থাকায় সেখানে রোগী পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাস শেষে কমিশন নেন ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন। অবশ্য তিনি অভিযোগ অস্বিকার করেছেন। সিভিল সার্জন যেখানে নমনিয়, সেখানে হাসপালটির দৈন্য দশা কি হতে পারে তার বলার অপেক্ষা রাখে কি, এমন প্রশ্ন আগত রোগী ও স্বজনদের।