সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন বার্তা পরিবেশক :: ভারতের অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ বলেছেন, অসমে বিজেপির ‘শনির দশা’ চলছে, ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসবে কংগ্রেস। গতকাল (মঙ্গলবার) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। রাজ্যটিতে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতাসীন রয়েছে।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ বলেন, ‘২০২১ সালে কংগ্রেসই রাজ্যে সরকার গঠন করবে। একের পর এক রাজ্য হারাচ্ছে বিজেপি। গণতন্ত্রে বিকল্প দলের প্রয়োজন আছেই। বিকল্প হিসেবে কংগ্রেসকে কিছুতেই বাদ দেওয়া যাবে না।’
এপ্রসঙ্গে আজ (বুধবার) অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সম্মানিত তরুণ গগৈ সাহেব যথার্থভাবে অত্যন্ত সঠিক কথাই বলেছেন যে, বিজেপির এখন ‘শনির দশা’ চলছে। কারণ একের পর এক তাঁরা রাজ্য হারাচ্ছে। বিশেষ করে অসমে বিজেপি সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা) আইন কার্যকর করার পরে বর্তমানে অসমে তাদের জনসমর্থন শূন্যে নেমে এসেছে। ওদের পায়ের তলায় মাটি নেই। অসমে ‘ক্যা’ কার্যকর হলে অসমিয়া ভাষা, সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাঙালি লোক এখানে এসে অসমিয়া ভাষাকে গ্রাস করবে। সেজন্য আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সমস্ত শ্রেণির মানুষ আজ জেগে উঠেছে ‘ক্যা’র বিরুদ্ধে ও বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই ২০২১ সালে তাঁরা ‘হিরো’ থেকে ‘জিরো’ হয়ে যাবে এবং রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে।’
বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বিগতদিনের বিজেপি শাসনকে ‘কুশাসন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে অর্থনীতির বেহাল দশা, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে, চাকরি- বাকরি নেই, বেকারত্ব বেড়ে গিয়েছে। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে সারা ভারতের যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতি ধ্বংস হচ্ছে। ভারতের যে ‘সেকুল্যার স্ট্রাকচার’ তারা ধ্বংস করেছে। নোট বাতিলের ফলে সমস্ত মানুষকে যন্ত্রণা দিয়েছে মোদি সরকার। মোদির কর্পোরেট বন্ধুদের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু মিলিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল। ‘ক্যা’তে তা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। ‘ক্যা’ কার্যকর হওয়ার পরে সেই ক্ষোভ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। সেজন্যই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনবে।’
অসমের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, ‘মোদি সরকার তার দ্বিতীয় কার্যকালে এসে সিএএ/ক্যা চাপিয়ে দেয়। কিন্তু তিনি গৌরব অনুভব করছেন যে, অসমের সংগ্রামী মানুষ সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সিএএ’-এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে অসমের জনগণ এর বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজপথে নেমে পড়েছেন। সিএএ-এর বিরুদ্ধে অসমেই প্রথম আন্দোলন শুরু হয় এবং তারপরেই তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।’
‘বিদেশি তাড়াব বলে বিজেপি এখন ‘বিদেশি’ আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে’ বলেও গতকাল মঙ্গলবার কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা তরুণ গগৈ মন্তব্য করেন।