বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
মুলাদী প্রতিনিধি :: মুলাদীতে পর পর ৩টি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে ফুপাতো ভাইকে দিয়ে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে স্ত্রীকে তাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে এক পাষ- স্বামী।
উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মজিবুর খানের পুত্র ইসমাইল খান ধর্ষিতা অপবাদ দিয়ে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এঘটনায় স্ত্রী মুলাদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ইসমাইল খানকে আটক করে। জানাগেছে প্রায় ১০ বছর আগে ইসমাইল খানের সাথে পূর্ব চরকালেখান গ্রামের লাল চান সরদারের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পর থেকে ইসমাইল তার শ্বশুরের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। পরে তাদের দাম্পত্য জীবনে পর পর তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি এবং ইসমাইল তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল তার ফুপাতো ভাই আরিফ হাওলাদারের কাছে মোবাইল ফোন রেখে চরমোনাই মাহফিলে যায়। ওই রাতেই আরিফ মোবাইল ফোনের চার্জার নেওয়ার অজুহাতে ইসমাইল খানের ঘরে যায়।
২৯ ফেব্রুয়ারি ইসমাইল মাহফিল থেকে ফিরে এসে তার স্ত্রীর কাছে আরিফ এসেছিলো কিনা জানতে চায়। চার্জার নিতে আসার বিষয়টি স্বীকার করলে তাকে আরিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। স্বামীর কথা মতো সাবিনা তার ফুপাতো ভাসুর আরিফের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আনলে ইসমাইল ও আরিফ দুজনে মিলে ধর্ষনের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সুচতুর ইসমাইল ধর্ষিতা স্ত্রীকে গ্রহণ করবে না জানিয়ে সাবিনাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এঘটনায় সাবিনা প্রকৃত রহস্য তুলে ধরে রবিবার রাতে মুলাদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানা পুলিশ সোমবার সকালে ইসমাইলকে আটক করে। মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ উদ্দীন মৃধা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করার উদ্দেশ্যে ইসমাইল তার ফুপাতো ভাই আরিফকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে ধর্ষনের নাটক সাজিয়েছে। ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।