মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
আহত রোগীর ব্যান্ডিজ ও সুন্নতে খাৎনায় ইচ্ছামত টাকা পুরছে পকেটে, কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে লুকোচুরি, মুখ খুলছেন না কেউ
আনোয়ার হোসেন :: বৃহঃপতিবার সকাল ১১টায় ঘড়ির কাটা যখন টিকটিক করছে ঠিক তখনি বরিশাল সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসেন সদর হাসপাতাল ভিজিটে আসলেন । আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ দেলোয়ার হোসেন সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সঙ্গে নিয়ে হাস্যজ্জল ভঙ্গিমায় বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে সš‘ষ্টির আদলে ফের গাড়িতে চেপে উঠলেন নিজ কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে।
অথচ এসময় এমার্জেন্সী বিভাগে বেশ কয়েকজন আহত রোগী সহ শিশুদের সুন্নতে খাৎনার পর্যায়ক্রমে কাজ চলছিল। সেবা শেষেই অনেকটা চাপের মুখে যার কাছথেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেটে পুরতে দেখা যায়। নির্দিষ্ট হারে টাকা নেয়ার কথা থাকলেও এই নিয়ম যেন হাসপাতলটিতে উপেক্ষা শব্দের সাথে মিলেমিশে বৈধতায় রূপ নিয়েছে। এসময় সিভিল সার্জন তার বহর নিয়ে এমাজেন্সির পাশ থেকে যাওয়ার সময় এক পলক উঁিক দিলেও দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি সেখানে কি ঘটছে।
অথবা সেবা পাচ্ছে কিনা এনিয়ে রোগীদের সাথে আলোচনায় গেলেন না। ব্যাস্ততার পুরুষ ওয়ার্ডের গ্রীলে জং ধরেছে কিনা তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় মিলিত হলেন দন্ডায়মান অবস্থায়। মাত্র ১৫ মিনিটের সিভিল সার্জনের ভিজিট চিত্র বলে দেয় হাসপাতালটির চিকিৎসকরা যা বলেন তাই তিনি মেনে নেন। এই বিশস্ততার কি রহস্য আছে তা বিধাতাই জানে।
সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসেনকে বাহির থেকে দেখতে ষোলয়ানা খাটি এবং নামাজি বলে মনে হলেও তার কথাবার্তায় চাতুরতার প্রমান পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদক হাসপাতালে তার উপস্থিতির খবর পেয়ে মুখোমুখি হলে আন্তরিকতার সাথে কথাপকথনে কোটি টাকার একটি টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনিই টেন্ডার দেখভাল করছেন, অথচ তিনি জানেন না টেন্ডারের অংক কত এবং কোন পত্রিকায় এ সংক্রান্তে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল!
সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালের উপকরন সরবরাহের নিমিত্তে এই টেন্ডারের সিডিউল ড্রাফিং করা হয়। পাচঁ গ্রুপের এই কাজে কতজন ঠিকাদার সিডিউল জমা দিয়েছে তারও সঠিক উত্তর নেই। শুধু জানানেলন যাচাই বাছাই চলছে। কিš‘ নিরবে কেন টেন্ডার আহব্বান করলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর হলো জাতীয় ও লোকাল পত্রিকা সহ অনলাই পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। কিš‘ সেই মিডিয়া গুলোর নাম কি তাও সিভিল সার্জন যেমন জানেন না, তেমন হাসপাতলের আবাসিক কর্মকর্তা ডাঃ দেলোয়ার হোসেন বললেন কাগজ দেখে বলতে হবে, স্মরন নেই।
একটি সূত্র জানায়, একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দিতে এই ছলছাতুরীর আশ্রয় নেয়া হ”েছ। খোদ সিভিল সার্জন যেখানে হাসপাতালে উপস্থিত সেখানে এমাজেন্সি বিভাগে অনিয়ম হয় কিভাবে, এপ্রসঙ্গে ডাঃ দেলোয়ার অনেকটা চ্যালেঞ্জের সূরে বললেন এমন স্বচ্ছতার নজির কোথাও দেখাথে পারবেন না! প্রতক্ষদর্শিরা জানায়, সুন্নতে খাৎনা অথবা জখম ব্যক্তির সেবা সুস্থাতায় খুশি হয়ে যে যেভাবে সন্তষ্টি করে যাওয়ার কথা। কিন্তু চলছে জুলুম। অন্তত ২ হাজার টাকার নিচে সুন্নতে খাৎনার কাজে তারা হাতদিতে নারাজ। আহত ব্যাক্তিদের কাছ থেকে ব্যান্ডেজ সহ অন্যান্য প্রথমিক সেবা সু¯’তা দেয়ার বিপরিতে যার কাছ থেকে যেভাবে পারছে অর্থ নেয়া হচ্ছে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, কত জন রোগী এমাজেন্সিতে আসলেন তার নথি পত্রে নাম উল্লেখ থাকার কথা থাকলেও এই নিময় মানা হয়না ঐ টাকা নেয়ার কারনে। রোগী বেশি দেখানো হলে টাকার পরিমানও বেশি অনুমান করবে আবাসিক কর্মকর্তা, এমটি ভেবেই এই কৌশল নেয়া হয়। আবাসিক কর্মকার্তা এই অর্থের ভাগ পান কিনা তা নিশ্চিত করে কেউ না বলতে পারলেও হাসপাতালের একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছেন, তিনি সবই জানেন। সুবিধাও নেন। আবার ইতিবাচক ভুমিকাও আছে। এমাজেন্সিতে ডাক্তার নেই, চলছে সহকারী দিয়ে। সাথে বহিরাগত কিছু যুবকদের কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন এই প্রসংঙ্গটি জানেন কিনা সে বিষয় তার মতামত জানতে চাই তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশ্ন কারা আর ইস্যু পেলেন না।
গত ৩ বছর ধরে এক্স্রে-মেশিনটি বিকল হয়ে পরে রয়েছে, তা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। এরও রহস্য পাওয়া গেছে। মুলত হাসপাতাল সম্মুখে বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের সাথে চুক্তি থাকায় সেখানে রোগী পাঠিয়ে দেয়া হয়। মাস শেষে কমিশন নেন ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন। অবশ্য তিনি অভিযোগ অস্বিকার করেছেন। সিভিল সার্জন যেখানে নমনিয়, সেখানে হাসপালটির দৈন্য দশা কি হতে পারে তার বলার অপেক্ষা রাখে কি, এমন প্রশ্ন আগত রোগী ও স্বজনদের।