মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি :: ভাষা আন্দোলনের ৬ দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন শহীদ মিনার। ফলে বাঁশ, কাগজ ও কলা গাছ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনারে ফুল না দিয়ে শুধুমাত্র দোয়া করে স্মরণ করা হয় ভাষা শহীদদের। এদিকে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে উত্তর শিহিপাশা জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গৈলা দাখিল মাদ্রাসা, বাগধা পূর্ব দাসপাড়া এসডিপি মডেল উ”চ বিদ্যালয়, আমবৌলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় এখনো নির্মান করা হয়নি শহীদ মিনার। এতে যেমন নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে না ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস, অন্যদিকে তাদের মধ্যে জাগ্রত হচ্ছে না ভাষা আন্দোলনের চেতনা। ফলে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিš‘ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বাঞ্চনীয় থাকলেও উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তা নেই। তাই বাধ্য হয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানতে বাঁশ, কাগজ ও কলা গাছ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ সংকটকেই চিহ্নিত করেছেন প্রধান শিক্ষকরা। আর হাতে গোনা যে কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে তাও আবার সারা বছর পরে থাকে অবহেলায়। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারে শহীদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা না জানিয়ে তার পরিবর্তে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা। শহীদ মিনার না থাকা উত্তর শিহিপাশা জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ কুমার হালদার জানান, স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা বাঁশ, কাগজ ও কলা গাছ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমরা মনে করি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা প্রয়োজন। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে যারা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় না, আমি তাদের বলবো এই দিবসের সাথে ধর্মীয় অনুভূতির কোন সম্পর্ক নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্যাক্তিগত উদ্যেগে শহীদ মিনার তৈরিও হয়েছে। এখনো যেসব প্রতিষ্ঠানে হয়নি সেগুলোতে শহীদ মিনার নির্মানে স্কুল কমিটির সহযোগীতা চাওয়া হবে।