মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক মাস গত হল। ইত্যমধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্বমহিমায় নিজের দক্ষাতার স্বাক্ষর রেখেছেন, আলোচিতও হয়েছেন। স্বচ্ছ ও সাধাসিধে গোছের স্থানীয় পুলিশের র্শীষ এই পুলিশ কর্মকর্তা শুধু আইন শৃংখলা নিয়েই নিজের চিন্তাধারা সীমাবদ্ধ রাখেননি, সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার আলোকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তার হাস্যজ্জল উপিস্থতি নজর কেরেছে। ইতিমধ্যে নিজেকে মিডিয়া বান্ধব হিসাবে প্রকাশ করলেও মো. শাহাবুদ্দিন খান যেনে প্রচার বিমূখ। তুলনা মূলক অন্য অন্য পুলিশ তিনি অতটা প্রচার মূখো নয় বলে মিডিয়া কর্মীদের কাছেও তার গুরুত্ব বেরেছে, সঙ্গত কারনে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানাদি হলে ডাক পরে এই চৌকস কর্মকর্তার। নামে নয়, পদবির গুনেও নয়, দক্ষতার ও ইতিবাচক চিন্ত ধারার বহি প্রকাশ ঘটানোর কারনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনাও কম নয়। এক বিকালে তার মূখোমূখী স্বক্ষাতে জানা গেলো বরিশাল শহর নিয়ে সুদুর প্রসারিত উন্নয়ন চিন্তা ধারার কিছূ কথা। যা আশা বানী হিসাবে পুলোকিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। চাকুরির নিয়ম অনুসারের তিনি হয়তো বেশি দিন থাকবেন না। কিš‘ উদারন রেখে যেতে চান ইচ্ছা থাকলে একটি নগর ও পুলিশ প্রশাসনকে কি ভাবে ঢেলে সাজিয়ে আইনশৃখলার অভাবনীয় উন্নত সাধন করা সম্ভাব।
এমন কিছূ উদাহরন টেনে যা শুনালেন তাতে সহজেই অনুমেয় বরিশাল নিয়ে তার দিগন্ত বিস্তৃত স্বপ্নের কথা। প্রথম ধাপে কিভাবে সুশৃঙ্খল নগর হিসাবে বরিশালকে রুপান্তিত করা যায়, সেই পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই পুলিশের মধ্যে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করাতে সক্ষম হয়েছেন এমনটি ইতিমধ্যে ধারনা পাওয়া গেছে। হাতে নিয়েছেন আরো কিছু গুরুত্ববহ পরিকল্পনা। দূর্নীতি গ্রস্থ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা থেকে সদস্যদের জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে এসে গোটা প্রশাসনে থরকম্প ধরিয়ে দিয়েছেন। ঢেলে সাজিয়েছেন গোটা মেট্রো পুলিশ বিভাগ। সিনিয়র হিসাবে নয়.যোগ্যতা ও পদন্নতির আলোকে তার অধিনস্ত চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সেক্টর দেখভালের দায়িত্বে বসিয়েছেন। থানা ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে যাদের স্ব স্ব থানায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের প্রতি আস্থা রাখলেও গোপনে নজরদারী রাখছেন তাদের গতিবিধি। সম্প্রতিক বেশ কয়েকজন মাঠ পর্যায়ের পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম- দূর্নীতি প্রমাণ পাওয়া তাৎক্ষনিত ব্যাবস্থা নেয়া স্ব”ছতার প্রশ্নে আপোষ নেই তার উদাহরন রাখায় বরিশাল পুলিশের মধ্যে দায়িতে কতব্য অনেকাংশে বেরেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি শতভাগ আশাবাদী নগরীর আইনশৃংখলা অন্যান্য সমায়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভাল। এই জন্য শুধু পুলিশ প্রশংসিত নয়, জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তার অভিমত। মামলা সংখ্যা বারছে না কমছে তার উপর আইনশৃংখলা বিবেচনা সঠিক হবে না। মামলা গ্রহনের মত গুরুতর অপরাধ সংগঠিত হলে আইনের আশ্রায় যে কেউ নিতে পারে, পুলিশ তা গ্রহনে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে পুলিশের অবহেলা আবার কাউকে অজতা হয়রানি বরদাস্ত করবেন না। শহর উন্নয়নে তার পরিকল্পনার যে ছক তাতে যানজট নিরসনের উপর তিনি বেশী মাত্রায় গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বরিশালের যানজট অন্যান্য শহর অপেক্ষায় অনেকটাই সহনশীল। তদুপরি ট্রফিক বিভাগকে সতর্ক রাখার পাশাপাশি গন পরিবহন চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্ঠা চলছে। তিনি মাদকের বিষয় আপোষ নেই দৃড় কন্ঠে বলেন, পূবেকার তুলনায় নেশার রাজ্যে ধ্বস নামাতে সক্ষম হয়েছেন এরুপ দাবী করে পিছনে দিন পর্যালোচনার তাগিদ দেন। ডিবি পুলিশ মাদক দিয়ে নীরহ মানুষকে হয়রানি এবং মাদক মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি দেখাতে এই দপ্তরের কিছূ অনিয়মের কথা তুলে ধরা হলে প্রতি উওরে জানান, ধানের ভিতরে চিটা থাকা স্বাভাবিক কিš‘ তা বাছাই করে স্বচতায় এনেই ভালো রুপ দিতে হয়। তেমনি ডিবি পুলিশের এ ধরনের অনিয়ম ধরিয়ে দিতে পারলে তিনি কি পদক্ষেপ নিবেন তা সময়ে উপলদ্বির অপেক্ষায় থাকতে বললেন। মেট্রোপুলিশ কমিশনার শাহাবু্িদ্দন খান জানালে তার আর একটি পরিকল্পনার কথা, যা খুবই গুরুত্ব পূর্ন বটে। শহরে অপরাধী চিহ্নিত করনে গুরুত্ব পূর্ণ স্পটে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রথম ধাপের কাছ শেষ করেছেন। এখন মেট্রো এলাকা সংশ্লিট ৩৮ কিঃ মিঃ মহাসড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার হাতে নিয়েছেন। এখন এক সাথ ১৬টি টিভি মনিটরে গোটা সিসি ক্যামেরার চিত্র পট দেখা হ”েছ। আগামিতে একসাথে দেড়শ মনিটর চালুর আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। এই বিভাগটি দেখা শুনার জন্য আলাদা ভাবে একটি সেল গঠন করেছেন, যার তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসি) পদ মর্যাদার এক জন কর্মকর্তা রয়েছেন। সেখানে আরোও লোকবল বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিউনিটি পুলিশের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শাহাবুদ্দিন খান জানান, সামাজিক-রাজনৈতিক ও সুশিল সমাজের ব্যাক্তি বর্গদের নিয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক গঠিত এই পুলিশের কাছ শুধূ থানা পুুলিশকে অপরাধী চিহ্নিত করে থানাকে অবহিত করা নয় । সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধিতে প্রচার প্রচরনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের আলোকে কমিউনিটি পুলিশের ভুমিকা সমাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। তিনি জানালেন আরকটি অজনা তথ্য। এখন বিট পুলিশিং ব্যাবস্থা চালু করা হয়েছে। এসআই পদমর্যদায় একজন কর্মকর্তাকে নিরবে মহল্লা বা ওয়াডে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যে কিনা সংশ্লিষ্ঠ এলাকায় নজরদারি রাখার পাশাপাশি অপরাধী ও মাদক বিক্রেতাদের পরিচয় পরিচিতি থানাকে অবহিত করবে গ্রেফতার সহয়তা স্বরুপ।
প্রায় দেড় ঘন্টা শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তার সাথের প্রতিবেদকের কথোপথনে প্রশ্ন ও পাল্টা প্রশ্নে তার দক্ষতা ও কথা বলার অঙ্গিত ছিল অনেক পুলিশকর্তার থেকে ভিন্নতা দৃষ্ঠি কারে। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস ক্যাডারে পুলিশ প্রশাসনে যোগ দানের বিষয় তার উদেশ্যর কথা জানতে চাইলে সোজাসাপ্টা জানালেন এই পেশার মাধ্যমে অতিদ্রুত মনুষের কাছাকাছি আসা এবং সেবা করার সুযোগকে তিনি মূল্যয়ন করে সেই তরুন বয়সে এমন সিদ্বান্ত নিয়ে এখন সাধছন্দ বোদ করছেন। কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ডিআইজি পদ মর্যাদার শাহাবুদ্দিন খানের পুরষ্কারের ঝুড়িতে রয়েছে একাধীক পদক। যা ইষনীয় বলা যায়। কিš‘ তার মধ্যে সেই ভাব নেই, আছে বর্তমান কর্ম¯’ল বরিশাল নিয়ে তার দিগন্ত বিস্তৃত এক গু”ছ পরিকল্পনা। যেখানে আপোষ নেই, আছে দায়িত্ববোধের ষোল আনা মানষিকতা। এমনটি না হলে কি চলে, তাইতো তিনি আলোচিত। এধরনের পুলিশ কর্মকতাকে নিয়ে অতীতে আলোচনা কমই উচারিত হয়েছে। অথচ শাহাবুদ্দিন খান কারও সাথে নিজেকে তুলনা করতে নারাজ। তার ভাষায় সব কর্মকতাই কাজে সচেষ্ট থাকেন। হয়ত ফোকাস হয় না । নয়তো পুলিশের বিষয় জনগণ নেতিবাচক মনোভাব পোষন করায় ভালো কাজেও বাহাবা মেলেনা। তবুও এই পথ চলতে হবে জনগণকে নিয়েই। যেখানে সেবাই হচ্ছে মূল মন্ত। এমন মন্তব্যে আপাতোত গুডবাই জানালেন আবার দেখা হওয়ার প্রতাশায়। প্রতি উওরে জানালাম আপনাকে স্যালূট।