মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেটই এখন দেশের মানুষের কাছে ধ্যান-জ্ঞান। বাংলাদেশের খেলার দিন প্রায় ১৭ কোটি মানুষ তাকিয়ে থাকে টিভির স্ক্রিনের দিকে।
অনেকে আবার সময় পেলে লাল-সবুজ জার্সি পরে চলে যান স্টেডিয়ামে। আর দেশের বাইরে খেলা হলে চোঁখ রাখেন টিভির পর্দায় কিংবা হেড ফোনে রেডিওতে শোনেন ধারা বিবরণী। বাংলাদেশের খেলার দিন শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও খবর রাখে মাশরাফি-মুশফিক-সাকিবরা কেমন খেলছেন।
রিকশা চালক তার রিকশা থামিয়ে মোড়ে, দোকানে উঁকি মারেন নিজ দেশের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স জানতে। আর এক ধরনের অসাধু চক্র মানুষের আবেগ-ভালবাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার টাকার ফলাফল বাজি, ওভার বাজি, রানবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলছেন। এ জুয়া বাজির ফাঁদে পড়ে শিক্ষার্থী, শ্রমীকসহ অনেকেই হয়ে যাচ্ছেন নিঃস্ব। টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময়ই ঘটে নানা ধরনের বিপত্তির ঘটনা। জুয়াবাজি চলছে রাস্তার মোড়ের দোকান, চুল কাটা সেলুনসহ প্রকাশ্য দিবালোকেই।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাজিকররা মাঠে গিয়ে বাজি করেন। কিন্তু আমাদের দেশে এক ধরনের বাজিকর আছেন যারা বাজি ধরেন টিভির স্ক্রিনে খেলা দেখে। আজকাল একটু ভালোভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায় যখন কোনো ধরনের খেলা চলে বিশেষ করে টি-২০ কিংবা একদিনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই। জটলা বেঁধে যায় ছোট্র ছোট্ট দোকানগুলোতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খেলা চলাকালে সাহেবেরহাটের একটি ছোট্ট চায়ের দোকানে উপচেপড়া ভিড়। কাছে ভিড়তেই দেখা যায় হাতবদল হচ্ছে টাকা। আর বুঝতে বাকি রইল না এখানে জুয়া চলছে। ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে কত রান হবে, ৫/১০ ওভারে কত রান হবে, টোটাল রান কত হবে, কোন প্লেয়ার বেশি রান করবে সব কিছুতেই চলে বাজি। বাজি চলাকালিন একটা মজার ব্যাপার হলো অনেক সময় দোকানদার বলেন, আর টিভি চলব না, খেলা বন্ধ। তখন আবার সেখানকার জুয়াড়ি’রা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দোকানদারকে দিলে, দোকানি হাসিমুখে টিভি চালিয়ে দেন।
এমনকি দোকানদার নিজেও বাজি ধরেন প্রতিনিয়ত। বাজির এমন দর কষাকষি চলে রীতিমতো প্রকাশ্যে। বন্দর থানার সাহেবেরহাটে এসব জুয়াখেলা প্রতিনিয়ত হচ্ছে কিন্তু দেখার কেউ নেই। বন্দর থানার আইন-শৃংখলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিংবা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে কয়েকজনকে কড়া হুশিয়ারি দিলেও কিছুতেই পেরে উঠছে না এ জুয়াড়ি এবং বাজিকরদের সঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখার নামে চলে জুয়া খেলার রমরমা বানিজ্য।
এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বন্দর থানার সাহেবেরহাটের সুশিল সমাজ ও ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে। তারা অভিযোগ করে বলেন, থানা পুলিশকে ব্যাপারটি অবহিত করলেও হচ্ছেনা কোন প্রতিকার- জুয়া চলছে হরদমে। স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছেন, রাস্তায় টহলে থাকা পুলিশ অফিসারদের এই জুয়া খেলার বিষয়টি বেশ কয়েকবার জানিয়েছি কিন্তু এই জুয়ার সিন্ডিকেট তারা দেখেও না দেখার ভাব করে এড়িয়ে যাচ্ছে।
যদিও অভিযোগ পুলিশের পক্ষ থেকে বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। গোপন সুত্রে জানা যায় প্রতিদিন কিংবা গভীর রাতেও চাঁদপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন ষ্টান্ড, চায়ের দোকান, চুল কাটা সেলুনসহ অনেক জায়গায় বসে খেলা হয় এই অবৈধ ইসলাম বিরোধী জুয়া খেলা। এতে এলাকায় চুরি,ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবনতা বৃদ্বি পেয়ছে।
এমনকি উপজেলার চরকাউয়া, টুঙ্গিবাড়িয়া, চাঁদপুরা, সাহেবেরহাট, লাহারহাট, চন্দ্রমোহন, চরমোনাই, রাজারচরসহ বেশ কিছু এলাকাতেও টিভিতে ক্রিকেট খেলার স্কোর, রান, ও ওভারের উপর নির্ভর করে জুয়া খেলার আসর বসে। টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখার নামে চরকাউয়া খেয়াঘাট, চাঁদপুরা ইউনিয়নের ব্যাস্ততম বাজার সাহেবেরহাটের বেলালের চায়ের দোকান, বাজারের বেশ কয়েকটি সেলুনসহ বিভিন্ন দোকানে চলে প্রতিদিন রমরমা জুয়া বানিজ্য। এতে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তেমনী ছাত্র ও যুব সমাজ ধংশের পথে পা বারাচ্ছে।
এদিকে নাম না প্রকাশ করা সর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিবাবক বলেন, স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমাদের সন্তান’রা প্রতিদিন সাহেবেরহাট গিয়ে দিন নেই রাত নেই টিভি দেখায় মগ্ন হয়। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে মেধাবিকাশ তেমনি হচ্ছে জুয়া খেলার নেশায় ঘড় ছাড়া। এদিকে সাহেবেরহাট বাস ষ্টান্ডের কয়েকজন দোকান ব্যাবসায়ী বলেন অটো স্টান্ডের চায়ের দোকানদার বেল্লাল টিভিতে খেলা দেখার নামে ১টা বানিজ্য শুরু করছে, এর ফলে এলাকার পোলাপান নষ্ট হচ্ছে। আমি মনে করি যুব সমাজ, ছাত্র সমাজকে এই নেশা থেকে সড়িয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর নজর দেয়া দরকার।
এদিকে এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, এই জুয়া খেলার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই শুনতেছি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যাবস্হা নিলে বন্ধ হতে পারে এই অসামাজিক কর্মকান্ড।
এ ব্যাপারে বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা এবং আমার নলেজেও নেই। যদি অনুসন্ধান করে জুয়া খেলার সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আমার অফিসারদের দিয়ে জুয়ারিদের ধরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্বে আইনগত ব্যাবস্থা নেবো।