মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: বরিশাল সদর উপজেলার ১০ নং ইউনিয়নের চন্দ্রমোহন বাজারে সরকারি জমি দখলের লড়াই যেন কমছে না। দখলদারিরা শুধু সরকারি জমি দখল করেনি বাজারের স্টলগুলো ব্যক্তিগত কাজে যে যার মতো করে দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাজার কমিটির সূত্রে জানা যায়, বাজার কমিটির ঘর বিশ বছর যাবৎ এক প্রভাবশালীর দখলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, চন্দ্রমোহন মাছবাজার, কাঁচা বাজারসহ সকল স্টল রাগোবোয়ালদের দখলে। তারা আরো বলেন, যারা বাজারের জমি ও স্টল দখল করেছে তারা সবাই রাজনৈতিক পরিচয়ের জমি দখলবাজী।
অবৈধভাবে বাজারের জমি ও স্টল দখলকারীদেরর ভয়ে বাজার কমিটির কোনো লোক এমনকি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে চায় না। ব্যবসায়ীরা বলেন, আসলে অবৈধ দখলবাজীদের গুটির জোর কোথায়। এভাবে বাজারে সরকারি জমি ও স্টল দখল করে নিলে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাফেরা মুশকিল হয়ে যাবে।
এমনকি বাজারে ক্রেতা না আসিলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যাবে বলে জানান তারা। অবৈধ দখলকারীরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। সরকারিভাবে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়ীসহ জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালী নেতাদের বেদখলে পড়ে ইতোমধ্যে প্রায় জনগণের পথ চলাচলের ও গুরুত্বপূর্ণ কোটি কোটি টাকা মূল্যের তিন ভাগের এক ভাগ জমি ও স্টল জবরদখলের মাধ্যমে বাজারে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ না নেয়ার কারনে উদ্ধার হচ্ছে না এসব মহামূল্যবান বাজারের জমি ও স্টল। বাজারে দিনদিন মানুষ বাড়লেও চন্দ্রমোহন বাজারের জমি ও স্টল বেদখল হওয়ার ফলে জমি এবং স্টল কমে যাওয়ায় বাজারের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় ব্যস্ততম চন্দ্রমোহন বাজার সড়কের ওপর বসে বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে চন্দ্রমোহন বাজারে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের আগমন বেড়েছে দ্বিগুণ। তা ছাড়া শনিবার ও বুধবার সপ্তাহে দুই দিন হাটবার। বাজারের দিনই চন্দ্রমোহন বাজারে আসা-যাওয়ার সময় সব সড়কে বিভিন্ন যানবাহনের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। আর হাটের দিন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ, অফিস-আদালতে আসা লোকজন ও ছাত্রছাত্রীদের সীমাহীন ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চন্দ্রমোহন বাজারের জমি দখল করে রাতারাতি বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত নিয়ে ভাড়া দিয়ে মাসে প্রচুর টাকা আয় করলেও সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে চন্দ্রমোহনের তহসিলদার মিজানুর রহমান পান্নাকে মোবাইল ফোনে কল দিলে তা ধরেননি।
সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মেহদি হাসান প্রতিনিধিকে বলেন, বাজারে সরকারি জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।