মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন রিপাের্টর :: সিটি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
বৃহস্পতিবার মুক্তি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যে সারভারে ভোট নেয়া হচ্ছে তা কে কন্ট্রোল করছে তার ওপর নির্ভর করবে রেজাল্ট কীভাবে প্রকাশিত হবে। আমারা চাই নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করছে, সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক ব্যালট পেপারে ভোট হবে না ইভিএম পদ্ধতিতে হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আমরা বিপক্ষে না। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় ইভিএম পদ্ধতি নয়।অতীতে অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ইভিএমে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে- এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। কারণ এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।
সিপিবির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে হয়ে যায়। নির্বাচরে ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বাচনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারে তার জন্য অবাধ প্রচারের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। কেউ যাতে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে তার নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান সিপিবির মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ডা. সাজেদুল হক রুবেল।
তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে জামানত ও সিডি ক্রয় ও ফটোকপি বাবদ একজন মেয়র প্রার্থীর শুরুতেই তিন লাখ টাকা খরচ হবে। তাতে একজন সৎ রাজনীতিবিদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়া কঠিন।
তিনি মেয়র পদে জামানত বাবদ ১০ হাজার ও কাউন্সিলর পদে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং প্রার্থীদের বিনামূল্যে সিডি প্রদানের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও সিপিবি নেতা মানবেন্দ্র দেব বলেন, নির্বাচনের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। আমাদের চোখের সামনে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাবচনে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে সিটি নির্বাচন জতীয় নির্বাচনের মতো হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বাফি রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর প্রমুখ।
পরে পাঁচ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়।
তাদের দাবিগুলো হলো, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নির্বাচনে টাকার খেলা, প্রশাসনিক কারসাজি বন্ধ, জামানতের টাকা মেয়র প্রার্থীদের জন্য ১০ হাজার এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ, প্রার্থীকে বাধ্যতামুলক সিডি ক্রয় বাতিল এবং ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ।