মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র! পৌরসভার ময়লা পরিষ্কার করে সংসার চালান বিধবা তাহমিনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পন্ন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি আসামির
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগের রাজনীতি চান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগের রাজনীতি চান

নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে দেশকে ভালোবেসে রাজনীতি করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বনা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতার দলটির একুশতম সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ তুলে ধরে এই আহ্বান জানান তিনি।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি এই সম্মেলনের আগেই দলের মধ্যে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরম্ন করেছে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দল থেকে অনুপ্রবেশকারী-অপকর্মকারীদের বাদ দেওয়ার যে আওয়াজ উঠেছে, তাতে আশা দেখছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা তোলেন তিনি, দলীয় পতাকা তোলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার কাউন্সিলে গঠিত হবে আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব। তিন যুগের বেশ সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যার সভাপতি পদে থাকা নিশ্চিত হলেও অন্য পদে কী পরিবর্তন ঘটতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তবে সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা যে ভাষণ দিয়েছেন; তাতে তিনি দৃশ্যত স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, ত্যাগ স্বীকারকারীদেরই মূল্যায়ন করবেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের রাজনীতির মাহাত্ম্য তুলে ধরতে গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে উদ্ধৃত করে তিনি তিনি বলেন, ‘নীতিবিহীন নেতা নিয়ে অগ্রসর হলে সামযকভাবে কিছু ফল পাওয়া যায়। কিন’ সংগ্রামের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না’। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় বাসত্মবতা। যে কোনো রাজনৈতিক নেতার জীবনে নীতি-আদর্শ সব থেকে বড় আর সেই আদর্শের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সদাপ্রস’ত থাকার কথা। ‘যিনি প্রস’ত থাকতে পারেন, ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তিনি সফল হতে পারেন। দেশকে কিছু দিতে পারেন। জাতিকে কিছু দিতে পারেন।’

আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের পথচলার ঘটনাবলি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, নেতা-কর্মীদের ত্যাগেই সফল হয়েছে এই দল। ‘বারবার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মত্যাগ করেছে এবং তারই ফসল বাংলাদেশের জনগণ আজ পেয়েছে।

আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নত সমৃদ্ধির পথে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। সেটাই আমাদের লড়্গ্য। আমরা সেটাই করতে চাই।’ সোনার বাংলার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখতেন, তা বাসত্মবায়নে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্‌বান জানান তিনি। ‘আমরা বাঙালি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনেপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই লড়্গ্য নিয়েই আমরা আমাদের

রাজনীতি করে যাচ্ছি। তাই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে আমি এই অনুরোধ করবো, আপনাদেরকেও সেই চিনত্মা- চেতনা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানাপ্রতিকূলতা পেরিয়ে আসার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ যে শক্তি অর্জন করেছে, সে কথাও বলেন শেখ হাসিনা। ‘আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেবার অনেক প্রচেষ্টা অনেকেই করেছে। সেই পাকিসত্মান আমল থেকেই যদি দেখি ইয়াহিয়া খান, আইয়ুব খান। এরপর পঁচাত্তরের ১৫ই অগাস্ট জাতির পিতাকে যখন হত্যা করা হল, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করল জিয়াউর রহমান। এরপরে জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়া। যে যখন এসেছে সবার আগে আঘাতটা কিন’ আওয়ামী লীগের উপরই এসেছে।

‘কিন’ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া আদর্শের সংগঠন বলে কেউ এই সংগঠনকে নিঃশেষ করতে পারেনি। এই সংগঠন সাময়িক ড়্গতির সম্মুখীন হয়েছে, কিন’ একেবারে ধ্বংস করতে পারেনি।’ নেতা-কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে নিজের পরিজন হারিয়ে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েপ্রতিকূলতার মধ্যে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ‘দেশে মার্শাল ল, প্রতি রাতে কারফিউ।

জাতির পিতাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের ড়্গমতায় আনা হয়েছে। আমার বাবা, মা, ভাই, বোনদের যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচারের পথ বন্ধ করে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করা হয়েছে।’ ‘তারপরও আঘাত এসেছে। দলের মধ্যে ভাঙন হয়েছে। একবার, দুবার। সেই ভাঙন থেকে আবার আমি নতুনভাবে গড়ে তুলেছি। সারা বাংলাদেশে ঘুরেছি। এই সংগঠনকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলে আজকে আওয়ামী লীগ এই বাংলাদেশে সব থেকে বড় সংগঠন এবং সব থেকে শক্তিশালী সংগঠন।’ বাংলাদেশ শাসন করা অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ওই দলগুলোর মতো ক্ষমতায় গিয়ে তৈরি হয়নি, জনগণের আকাঙড়্গা বাসত্মবায়নে জনগণের মধ্য থেকে তৈরি হয়েছে।

জাতির জনককে হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে তিনি বলেন, তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাইরে নিয়ে যায়। ‘বিএনপি হচ্ছে ড়্গমতা দখল করার পর একটা মিলিটারি ডিক্টেটর ড়্গমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের সৃষ্টি করেছিল, সেই জাতীয় দল। তারা দেশের জন্য কোনো কল্যাণ করতে পারে না।’ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘তারা যে সময় ক্ষমতায় ছিল, দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী কর্মকা-, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, দুজন সংসদ সদস্য হত্যাকা- ছাড়াও বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার নির্বাচনের দিন থেকেই শুরম্ন হল তাদের তা-ব, তাদের অত্যাচার-নির্যাতন। ‘আমরা দেখেছি স্বাধীনতাবিরোধী আল বদর,রাজাকারও আল শামসসহ যারা এদেশে মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, যারা লুটপাট করেছে, অগ্নি সন্ত্রাস করেছে তাদেরকে নিয়ে বিএনপি এই দেশে যেভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল.. তারা ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে, বিরোধী থাকলেও সন্ত্রাস করে।’ বিএনপির শাসনামল পেরিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মনত্মব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। সরকারের সেই লক্ষ্য বাসত্মবায়নে দলকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের সারা বাংলাদেশে প্রায় ২৯টি জেলার কাউন্সিল হয়ে গেছে। ডিসেম্বর মাস আমাদের অত্যনত্ম ব্যসত্মতার মাস দেখে আমরা আর করতে পারিনি। ‘এর পরপরই বাকি সমসত্ম জেলার কাউন্সিলগুলো আমরা করব। একেবারে তৃণমূল থেকেপ্রত্যেকটা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার কাউন্সিল হবে। সংগঠনকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করা, এটাই আমাদের লড়্গ্য। কাউন্সিলের মধ্য দিয়েই সংগঠন চাঙ্গা হয়, সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়। কাজেই আমরা সেভাবেই সংগঠনকে করে দিতে চাচ্ছি।’

আগামী বছর মুজিববর্ষ ঘটা করে পালন করবে বলে এবার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বড় আয়োজন না থাকলেও নেতা-কর্মীদের উচ্ছাসের কমতি ছিল না। বর্ণিল সাজে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হতে থাকে নেতা-কর্মীরা; গানের সঙ্গে চলতে থাকে নেতাদের ভাষণ। এরপর বেলা ৩টায় শেখ হাসিনা উপসি’ত হলে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় সম্মেলনের কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা সেস্নাগানে সেস্নাগানে স্বাগত জানান তাকে। শেখ হাসিনা মঞ্চে বসার পর শুরম্ন হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ শোকপ্রসত্মাব পাঠ করে শোনাল। অভ্যর্থনা উপ পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তারপর দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯