সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসা আরব আমিরাতের নাগরিক ব্যবসায়ী আলী আহামেদ ও স্থানীয় দুই দুবাই প্রবাসীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকাসহ বিমানের টিকিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রবাসী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফাতেমা বেগম এবং তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসারকে ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
পরে এ বিষয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারে কাছে অভিযোগ জানানোর পর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খাঁন পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম তার বড় ভাই দেলোয়ার আনসার ও স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (দুবাই) সাজ্জা সিটিতে ওই দেশের নাগরিক আলী আহামেদের (৬০) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন।
ফাতেমা বেগম ও তার স্বজন শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা চলতি মাসের প্রথম দিকে দেশে আসার সময় তাদের কফিল (মালিক) আলী আহামেদও বাংলাদেশ ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী গত ৩ নভেম্বর ফাতেমা বেগম ও তার পরিবারের সঙ্গে আলী আহামেদ কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসেন। সেখানে তারা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই জাকির হোসেন ফাতেমা বেগমের বাসায় গিয়ে তারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন বলে আলী আহামেদের লাল পাসপোর্ট ও তাদের বিমানের ফিরতি টিকিট দেখতে চান। এরপর তাদের বিমানের টিকেট নিয়ে যান এবং থানায় দেখা করতে বলেন। এ ঘটনার ৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় থানার এসআই শিশির ফাতেমা বেগমের বাসায় গিয়ে হাজির হন।
ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এসআই শিশির ঘরে ঢুকে দুবাইয়ের নাগরিক আলী আহামেদ ও তাকে জড়িয়ে অশালীন কথা বলেন। এক পর্যায়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের গ্রেফতারের হুমকি দেন। পরে শিশিরকে ১২ হাজার টাকা দিলেন তিনি চলে আসেন। এরপর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জানালে তিনি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী মো. আবদুর রহিমকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নিদের্শ দেন।
ফাতেমা বেগম ও শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কারণে এসআই শিশির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় ফাতেমা বেগমের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে এবং মুঠোফোনে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেন। তা না হলে ফাতেমা বেগম ও তার স্বজনদের মাদক এবং ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই অবস্থায় বিদেশি এই নাগরিক নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা।
ফাতেমা বেগম বলেন, বিদেশি মেহমান নিয়ে দেশে এসেছি। আগামী ডিসেম্বর আমাদের দুবাই ফিরে যাবার কথা রয়েছে। কিন্তু পুলিশের অব্যহত হুমকি ও নির্যাতনের ভয়ে ২-১ দিনের মধ্যেই দুবাই ফিরে যাব।
এই ব্যাপারে এসআই জাকির হোসেন ২টি টিকিট নেওয়ার কথা স্বীকারে করে বলেন, তারা বৈধ না অবৈধভাবে দেশে এসেছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য টিকেটগুলো নিয়েছেন।
তবে এসআই শিশির ওই বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেননি বলে দাবি করেন এবং তাদেরকে কোন রকম হুমকিও দেননি বলে জানান।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সদর সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে প্রবাসী ওই পরিবারকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে জানানোর জন্য বলেছি। তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।