মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক।। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। এর আগেই দেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল ইউনিটে কাউন্সিলের নির্দেশনা রয়েছে হাই কমান্ডের। তাই এরই মধ্যে কাউন্সিলের বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা। জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এদিকে বরিশাল বিভাগের হেড কোয়ার্টার খ্যাত বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে সম্মেলনের আগেই নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মহানগর নিয়ে। জেলার শীর্ষ পদে পরিবর্তনের তেমন আভাস না থাকলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে মহানগরে। যদিও রাজনৈতিক গ্রুপিং এর কারনে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন তৃনমুলের নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, সর্বশেষ ২০১২ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। দুই সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটিতে জেলায় আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সভাপতি ও তালুকদার মো. ইউনুস সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগরে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন সভাপতি ও আফজালুল করিম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এর প্রায় চার বছরের মাথায় ২০১৬ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায় তিন বছর মেয়াদী জেলা আওয়ামী লীগের ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমিটি। তবে কমিটি অনুমোদনের আগেই সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুতে শূণ্য হয়ে যায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ।
তাই ২০১৬ সালের অক্টোবরে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পুর্ণাঙ্গ কমিটি পায় মহানগর আওয়ামী লীগ। এ কমিটিতে সাবেক শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে সভাপতি ও এ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীরকে দেয়া হয় সাধারণ সম্পাদক পদ। আর দুঃসময়ে বরিশাল আওয়ামী লীগের হাল ধরা বর্তমান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে করা হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ফলে এ নিয়ে সাদিক শিবিরে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকেও নেতৃত্বে শীর্ষে রয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। শীর্ষ পদে না থাকলেও মহানগর আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী মহলের অল ইন অল হিসেবেই দেখা হচ্ছে তাকে।
এদিকে ২০১২ সাল থেকে হিসেব করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। তবে পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের সময় থেকে হিসাব করা হলে এ কমিটির মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিরও উত্তীর্ণ হবে অক্টোবর মাসে।
এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণের তিন মাস আগে থেকে নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে সম্মেলনের। তাই গঠনতন্ত্রের পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের প্রস্তুতির বিষয়টি বেশ জোড়ে সোড়েই শোনা যাচ্ছে।
এমনকি কাউন্সিলের প্রস্তুতির বিষয়টি খোলাসা করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলোতে কাউন্সিলের নির্দেশনা রয়েছে হাই কমান্ডের। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা কাউন্সিলের দিকে এগোচ্ছি। এখন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ না হলেও ভেতরগত প্রস্তুতি চলছে। আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে সম্মেলনের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। শীর্ষ পদের লড়াই এদের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন দলীয় ফোরাম। তবে নেতৃত্বের হিসাবে আলোচনায় এগিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ। তার হাত ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম।
যদিও কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়ে ভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে। আলোচনা হচ্ছে মহানগর নয় জেলার রাজনীতি করবেন তিনি। এমনটি হলে সড়ে দাড়াতে হতে পারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসকে। কেননা জেলার সভাপতি পদে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র বিকল্প কাউকে দেখছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
তবে দলীয় ফোরামে আলোচনা চললেও জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে ধোয়াশা কাটেনি। আদৌ সম্মেলনের প্রয়োজন হবে কিনা সে বিষয়ে হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন জেলার নেতারা, এমনটিই জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে কাউন্সিলের নির্দেশনা রয়েছে। তবে আমাদের কমিটির মেয়াদ এখনো উত্তীর্ণ হয়নি। ভাই (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ) আসার পরে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। কাউন্সিলের প্রয়োজন হলে তিনিই তার সিদ্ধন্ত দিবেন।
সাবেক এমপি তালুকদার ইউনুস বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের যেসব অঙ্গ সংগঠন রয়েছে সেগুলোর বিষয়েও আলোচনা হবে। কোথায় কোথায় কমিটি আছে, কোথায় নতুন কমিটির প্রয়োজন আর অঙ্গ সংগঠনের কতটা কমিটি আমরা দিতে পারবো সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে।