শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসলেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মধ্যে। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা রান্নার চুলাতে আগুন দেয়নি। একই সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষত চিহ্ন।
পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে প্রস্তুত করা হয় গাড়িটি। কিন্তু গ্যাস পাম্পে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়িটি।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়-কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের ৩ পাশে রয়েছে অসংখ্য বসতি। রয়েছে পর্যটকবাহী গাড়ি গ্যারেজও। গ্যারেজটিতে পার্কিংয়ে থাকা ৩০টি ট্যুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে পাশের ৩টি ঘরও পুড়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ৯ জন দগ্ধসহ ১৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, এই গ্যারেজের পার্কিংয়ে পর্যটকবাহী ৪০টি জিপ ছিল। শুধুমাত্র ১০টি গাড়ি বের করতে পারলেও বাকি গাড়িগুলো পুড়ে ছাই। পুরো গ্যারেজ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, এখনো বসতিতে ঢুকতে পারেনি। রান্নাও হয়নি। রাতে অন্যত্রে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেহেরি খেয়েছি। আতঙ্ক কাটছে না, কারণ ফায়ার সার্ভিস নির্দেশনা দিয়েছে আগুন না জ্বালাতে।
এদিকে, সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
ওইসময় সঙ্গে থাকা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক ঘিরে এ আগুন। পাম্পটি চালু হয়েছে মাত্র ৩ দিন আগে। গ্যাস পাম্পে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা বা অনুমতি ছিল না। অনুমোদনহীন পাম্প চালু করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে কলাতলীর হোটেল–মোটেল জোনের পূর্ব দিকে আদর্শগ্রামে ওই পাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে বলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়।