মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ঢাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশি নিহত বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান সরকার ১৪ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে ৪ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস খোঁজ মিলছে না অভিনেতা আলভীর এবারে পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার অনুমোদনহীন গ্যাস পাম্পে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠন ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই : তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ কলকারখানা চালুতে সহযোগিতা করবে: গভর্নর সাতক্ষীরা গরুবোঝাই ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে নিহত ২ দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০ বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশ মোতায়েন মাদারীপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
সম্রাটের টাকা উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে সিঙ্গাপুরে

সম্রাটের টাকা উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে সিঙ্গাপুরে

যুবলীগের এই চার নেতা হলেন, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

সিআইসির চিঠির বরাত দিয়ে দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের শীর্ষ ব্যাংকার জানিয়েছেন, চার নেতার ১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে তিনটি, জি কে শামীমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুইটি, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আছে একটি আর নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে সাতটি।

এর আগেই নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে এ ১৩ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবকে। এসব প্রতিষ্ঠানের যেকোনও মেয়াদি আমানত (এফডিআর ও এসটিডি), মেয়াদি সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ, এসব ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা যেকোনও ধরনের সেভিং ইনস্ট্রুমেন্ট বা ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিটকে জব্দ করার জন্য আগে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিআইসির নতুন এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো লকারে থাকা সম্পদ জব্দের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যেসব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: সিআইসির চিঠিতে ১৩ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করার তালিকার মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের লকারে থাকা যেকোনো সম্পদ, যেকোনো মেয়াদি আমানত (এফডিআর ও এসটিডি), মেয়াদি সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ। এর বাইরে এসব ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে যেকোনো ধরনের সেভিং ইনস্ট্রুমেন্ট বা ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিট থাকলে তাও জব্দ করতে বলা হয়েছে।

১৩ প্রতিষ্ঠান: ১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তিনটি হল- মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হিজ মুভিজ ও প্রিন্সিপেল রিয়েল এস্টেট। এর মধ্যে মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী আর মেসার্স হিজ মুভিজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট নিজে। তবে প্রিন্সিপাল রিয়েল এস্টেটের মালিক কে তার উল্লেখ নেই।

জি কে শামীমের দুই প্রতিষ্ঠান হল মেসার্স জি কে বিল্ডার্স ও জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। জি কে বিল্ডার্সের প্রোপাইটর জি কে শামীম নিজেই। আর জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কোনো মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে টিআইএন দেওয়া আছে-৩৭৮০৭০১৬৩২৪৫।

অপর দিকে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার প্রতিষ্ঠানটির নাম হল মেসার্স অর্পণ প্রোপার্টিজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া নিজেই।

আর নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মেসার্স নাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স আয়েশা ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠান দুইটির মালিকের নাম উল্লেখ নেই। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানের টিআইএন নম্বর-৩৬০২২৫৬৯২৪০৯। মেসার্স নাওয়াল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিদ্যা নিকেতন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রোপাইটর নুরুন্নবী চৌধুরী নিজেই।*

এছাড়া নাওয়াল কনস্ট্রাকশন নামের আরও একটি প্রতিষ্ঠানের কোন ঠিকানা উল্লেখ নেই, তবে টিআইএন নম্বর দেওয়া আছে ১৫৯৪৪১৬৩৮৯৬৫।

মেসার্স ফারজানা বুটিকের প্রোপাইটর ফারজানা চৌধুরী এবং মেসার্স ইনটিশার ফিশারিজ ও মেসার্স ডিজিটাল টেকের প্রোপাইটরের জায়গায় নুরুন্নবীর চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংকারেরা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠান নুরুন্নবী চৌধুরী ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

সিঙ্গাপুরে সম্রাটের ১৫০ কোটি টাকার উদ্ধার তৎপরতা চলছে

এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে এখন গোয়েন্দা হেফাজতেই আছেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তবে কৌশলগত কারণে তার আটকের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, সময় হলে সব জানানো হবে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সম্রাট গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, ক্যাসিনো বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে সে। সিঙ্গাপুরে তার ১২০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা আছে।

সম্রাটের এই বিপুল পরিমাণ টাকাই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি সম্রাটকে আটক দেখানো হয়। তাহলে এই টাকাটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। টাকাটা উদ্ধারের একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দাদের একটি টিম সিঙ্গাপুরে যাবে এবং এই টাকা উদ্ধার করবে।

*আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সম্রাটকে আইনের আওতায় তো আনাই হবে। সেটা বড় বিষয় না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু যে টাকাগুলো বিদেশে পাচার হয়েছে। সেই টাকা উদ্ধার করাই আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা উদ্ধারের জন্য আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯