বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
মামুন আহমেদ, বানারীপাড়া: বানারীপাড়ায় ৮ যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. কাওসার(৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামের মৃত আ. রব কবিরাজের পুত্র। কাওসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ এপ্রিল রোববার রাত ৪টার দিকে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে মারা যায়। জানা গেছে, ১০ এপ্রিল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের শিফাতুল্লাহ, রাসেল, মোয়াজ্জেম, শুক্কুর, রমজান, বেল্লাল, রহিম, মাইনুল ও আব্দুল্লাহ-সহ ২০/২৫ জনের একটি দল ১০ এপ্রিল বাবুল, মাঈনুদ্দিন ও রিয়াজ নামের তিন যুবককে করপাড়া এলাকায় পেয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে বেদম মারধর করে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় চৌকিদার আ. খালেক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ এসে ওই তিন যুবককে গাঁজা-সহ থানায় নিয়ে আসে। চৌকিদার আ. খালেক জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিন যুবককে আহত ও বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাদের যারা বেঁধে রেখেছিলো তারা চৌকিদারের কাছে
ওই তিন যুবককের কাছে পাওয়া গাঁজার পোটলা ও তিনটি মোবাইল ফোন দেন। ওই দিনই মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে তাদের বরিশাল জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর পরের
দিন ১১ এপ্রিল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একই দল করপাড়া গ্রাম থেকে
পার্শ্ববর্তী নলশ্রী গ্রামে গিয়ে মৃত আ. রব কবিরাজের বাড়ি থেকে তার ছেলে
কাওসারকে ধরে এনে বেধড়ক মারধর করে। ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার মা রওশনারা
বেগমও আহত হন। ঘটনাস্থলের অদূরে ক্রিকেট খেলারত আরিফ, মাহমুদ, শাখাওয়াত ও
সাইফুল বিষয়টি জেনে সেখানে এলে তাদেরকেও বেধড়ক মারধর করে আরিফ ও সাইফুলকে বেঁধে রাখে। অন্য দুজন কৌশলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করে গাঁজা ব্যবসায়ীদের আটক করার
ঘোষণা দেওয়া হলে শত শত লোক সেখানে জড়ো হয়। খবর পেয়ে চৌকিদার আ.
খালেক ওই দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্য আহতরাও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ওই দুই যুবকের স্বজনরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ওই দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে আহত কাওসারকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখায় সে চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়। ১৯ এপ্রিল রোববার তার অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা তাকে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন । ওই দিন রাত ৪টার দিকে সেখানে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২০ এপ্রিল সোমবার সেখানে তার লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। এদিকে কাওসার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায়
মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, নলশ্রী গ্রামের মৃত আ. রব কবিরাজের বড় ছেলে মিজান কবিরাজকে ১৩ বছর আগে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। কাওসারকে হত্যা করার
ব্যাপারে জামিনে থাকা ওই মামলার আসামীদেরও ইন্ধন রয়েছে বলে স্বজনরা দাবি
করেন। এদিকে এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল জানান, এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।