বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
অনলাইন নিউজ :: জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী সাইদুল আকন ও তার বাহিনীর লোকজন মুক্তিযোদ্ধার তিন সন্তানকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
আহত তিনজনের মধ্যে জাকির হোসেন সিকদার নামে একজনকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও রোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ডান পা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
বুধবার রাতে জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপির উত্তর তারিকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর তারিকাটা গ্রামের সামসু আকনের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু হাতেম আলী সিকদারের ছেলে জাকির সিকদার ও তোফাজ্জেল সিকাদর ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমিতে তারা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে।
বুধবার সকালে জাকির সিকদার তার ওই বাড়ির একটি চাম্বল গাছ কাটতেছিল। এ সময় সামসু আকনের ছেলে সাইদুল আকন ও তার সহযোগী সিদ্দিক আকন, রাশেদ আকন ও সবুজ আকন ওই গাছ কাটতে তাকে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে জাকিরের সঙ্গে সাইদুলের কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় সাইদুল।
এ নিয়ে স্থানীয় হাবিবুর রহমান মাতুব্বরের মধ্যস্থতায় ওই দিন রাতে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তোফাজ্জেল সিকদার ওই সালিশ বৈঠকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আড়পাঙ্গাশিয়া ঈদগা ময়দান সংলগ্ন স্থানে গেলে চারটি মোটরসাইকেলে ১০-১২ জন দলের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এসে তাকে ঘিরে ফেলে এবং লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে।
খবর পেয়ে ছোট ভাই জাকির সিকদার ঘটনাস্থলে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ব্রিক ফিল্ডের কাছে তাকে পেয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ডান পা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তার ডাক চিৎকারে বোন নুননেহার ও ভাবি সালমা বেগম এগিয়ে আসলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে এবং তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ওইরাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল আকনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি।
সালিশ বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হাবিবুর রহমান মাতুব্বর বলেন, সালিশ বৈঠক আসার আগেই জাকির ও তার ভাই ও বোনকে মেরেছে শুনেছি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. সুমন খন্দকার বলেন, জাকির সিকদারের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর অপর দু’জনের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পেটানোর চিহৃ রয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।
অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।