মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: বরিশাল নগরীর ১ নং ওয়ার্ডে হতদ্ররিদ্ররা খুধা ঝালা সইতে না পেরে ত্রাণের দাবিতে সড়কে নেমেছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনকি এই দুর্যোগ সময়ে কাউন্সিলরা ঘর থেকে বেড় হচ্ছে না। কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, আমি ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার ৭ নং এর ভাড়াটিয়া। এখন ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমার ৭নং আসেনা আর অন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের লোকেরা বলেন আপনি যে ওয়ার্ডের ভোটার সেই ওয়ার্ডে যান। এমন তালবাহানা করছেন কাউন্সিলরের লোকেরা।
অন্যদিকে দালানে থাকা ভাড়াটিয়ারা বলেন, জারাই ত্রাণ নিয়ে আসেন তারা বলেন দালানে থাকা ভাড়াটিয়াদের জন্য ত্রাণ নেই কাউন্সিলরা দিতে নিষেধ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যেখানে সরকার সবাইকে ত্রাণ দিতে বলেছেন সেখানে তারা তাদের মনগড়া নিয়মে ত্রাণ বিতারন করছেন।
তারা আরো বলেন, আমরা কেউর কাছে চাইতে পারিনা তারা আমাদের দিচ্ছেও না। তাহলে আমাদের অবস্থা কেমন হবে।
এমন অভিযোগের সূত্রধরে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ওয়ার্ডের বিসিক রোডে জড়ো হন তারা। পরে পুলিশের আশ্বাসে ঘরে ফেরেন। এসময় তারা দ্রুত খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কাউন্সিলর বলছেন, পর্যায়ক্রমে সব অসহায় নিম্নআয়ের মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।
রাস্তায় নেমে পড়া নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষরা জানান, কাজ না থাকায় একদিকে অর্থের অভাব দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে তারা কোনো জায়গা থেকে এখনো কোনো ত্রাণ পাননি। এ কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় খাদ্য সহায়তার দাবিতে পথে নেমেছেন তারা।
এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তাদের বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিমুল করিম অনুসন্ধান ২৪কে জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
অপরদিকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমির হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘নগরের এ ওয়ার্ডটিতে বেশ কিছু শিল্প কলকারখানা রয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। এখানে অনেক বাড়িতে কয়েকটি ভাগে ৬/৭টি পরিবারও বসবাস করে। দুই দফায় তালিকা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক ত্রাণ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
এখন পর্যন্ত তিন হাজারের ওপর অসহায় পরিবারের এ ওয়ার্ডটিতে শুধু মেয়রের উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাতশতাধিক পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।’
আর কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধি এ ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেননি কিন্তু রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য হঠাৎ করে আজ এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ওয়ার্ডে যাদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো দল-মত দেখা হয়নি। নতুন করে তালিকা করার বিষয়টিও সবাই জানেন। তারপরও কেউ কিছু না জানিয়েই সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়েছেন।’
মেয়রের নির্দেশে কোনো দল বা মতের প্রশ্রয় না দিয়ে দ্বিতীয় দফায় তালিকা করা হয়েছে। মেয়রের উদ্যোগে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ওয়ার্ডেও খুব শিগগিরই ত্রাণ সহায়তা সবার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।