রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: বরিশাল সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না দোকানীরা। সারাদেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে জনসাধারণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিলেও বরিশালে নগরীসহ গ্রামে গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ। হাট-বাজরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না কেউ। পাড়া-মহল্লায় চলছে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা। নগরীসহ ও গ্রামের বাজারগুলোতে অযথা ঘুরফেরা করছে সাধারণ লোকজন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দোকান খোলা রেখে বেচাকেনা করছে ব্যবসায়ীরা। চায়ের দোকানে আড্ডায় মেতে আছেন গ্রামের মানুষ। এই যেন ঈদের উৎসব।
একদিকে নগরীর কাশিপুর বাজার, নতুনবাজার, হেমায়েত উদ্দিন রোড, পোট রোড, লঞ্চ ঘাট, পলাশপুর, কাউনিয়া, সদর রোড, হাতমে আলি চৌমাথা, নবগ্রাম রোডসহ নগরীর বিভিন্ন গল্লিতে একদিকে দোকনীদের আমেজ অন্য দিকে সাধারণ লোকের আড্ডা। তবে পুলিশের চোখের সাবনে কাশিপুরে লোকালয়ের আড্ডা দেখে মনে হয় আনন্দ মেলার উৎসব। কিছু কিছু গল্লিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দেখে অযথা ঘুরাফেরা লোকেরা লুকিয়ে যায়, দোকানীরা দোকান বন্ধ রেখে ভিতরে লুডু খেলায় মেতে উঠে। কে শুনে কার কথা।
বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকানে বিভিন্নশ্রেণির-পেশার মানুষের আড্ডা জমিয়ে উঠে। স্থানীয় সচেতন কেউ একজন কাউকে দোকানে আড্ডা না দিতে বারং করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে অসচেতন মানুষগুলো। প্রশাসনের লোকজন আসিলে আড়াল হয়ে থাকে তারা। তারা চলে গেলে হাটবাজারও সড়কে মানুষের সমাগম বেড়ে যায়। করোনা ভাইরাস আক্রমণের ভয় যেন এসব মানুষের মধ্যে নেই। বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে ছুটি কাটাতে বেশিভাগ মানুষ নিজ নিজ গ্রামে এসেছেন। মানুষের ঘরে থাকতে,বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাজারে না যেতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন নানা উদ্যোগে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে কাজ চালাছে। সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিতে দিনভর কাজ করছে প্রশাসন। তবে কে মানে কার বাধাঁ। গ্রামের বাজারগুলোতে লোকালয়ে আড্ডা বেড়েই চলছে। কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ ঘুরাফেরা করে লোকজনের আড্ডা দেখেও না দেখার ভান করে । তারা আরো বলেন, প্রশাসন যদি কঠর হয় তাহলে বাজারে মানুষ এত চলাচল করতো না। তবে প্রশাসনের অবহেলায় মানুষ বাহিড়ে বের হয়ে ঘুরাফেরা করে। আর এমন অবস্থা চলতে থাকলে মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে বেচে থাকা বড় কঠিন হয়ে যাবে।
এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় প্রশাসন নিয়ে লোকজনের মুখে নানা প্রশ্ন, মহামারি করোনা ভাইরাসে বিভিন্ন মহল্লায় দোকান বন্ধ থাকলে বন্ধ হয়নি কাশিপুর চৌমাথার দোকান ও মানুষের সমাগম। সরকারের নির্দেশ অমান্য করছে এয়ারপোর্ট থানা সামনে কাশিপুর চৌমাথা মানুষগুলো। স্থানীয় এক লোক অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের সামনে এতো মানুষের আড্ডা হয় কি করে। কাশিপুর চৌমাথার দোকান পাট ও মানুষের ভির দেখে মনে হয় লকডাউন বলতে কোন কিছুই না। তবে সরকারের নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না কেউ।