মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশালে ফরচুন সু লিঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ছদ্মবেশী নারী দাঁড় করিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দলিল বাতিলের দাবি সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ বরিশাল সদরের চরকরজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র!
সাতক্ষীরা ছয় হত্যা মামলার আসামীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

সাতক্ষীরা ছয় হত্যা মামলার আসামীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

নিউজ বার্তা :: সদর উপজেলার ধুলিহর চেলারডাঙি এলাকার তারক ঘোষের আমবাগান থেকে গুলিবিদ্ধ এক সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে দুইদল সন্ত্রাসীর গোলাগুলির মুখে ওই ব্যক্তি নিহত হন। তার নাম অহেদ আলী গাজী (৪৩)। অহেদ আলী গাজী জেলা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নের তমালতলা গ্রামের নবাত আলী গাজীর ছেলে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, গভীর রাতে পুলিশের কাছে খবর আসে যে, ধুলিহরের চেলারডাঙ্গি এলাকার তারক ঘোষের আমবাগানে দুইদল সন্ত্রাসী গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছে।

তিনি এসময় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌছে যান। ঘটনাস্থলে একটি লাশ দেখতে পান। তাকে ধুলিহর গ্রামের তমালতলা গ্রামের অহেদ আলী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা সিটি কলেজের প্রভাষক মামুন হত্যা এবং ২০১৯ সালের ২২ জুলাই কুচপুকুর বড়জামতলার আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল হত্যা ছাড়াও দুটি নাশকতা ও দুটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটার গান, দু’ রাউ- গুলি, তিন জোড়া জুতো ও একটি বড় ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদরের জামায়াতের আমীর ও খুলনার বিভাগীয় জামায়াতের সুরা সদস্য ধুলিহরের মোহাম্মদ আলীর দক্ষিণহস্ত ছিল অহেদ আলী। সে ছিল স্থানীয় জামায়াতের রোকন। তার আদি বাড়ি ছিল শ্যামনগরের বড় কুপট গ্রামে বলে জানান স্থানীয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহরে ঢোকার চেষ্টা করলে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজ মোড়ে জামায়াত শিবিরের কয়েক হাজার নেতা কর্মীকে পুলিশ ও বিজিবি বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে অহেদ আলীর বাম বাহুতে গুলি লাগলে তাকে রাত ৮টার দিকে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই রাতে তাকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অপারেশন করে বাম হাতে রড পরানো হয়। ছয়দিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, কলেজ প্রভাষক মামুন হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন তাকে ধরতে বাড়িতে ওই বছরের ১১, ১৪ ও ২৬ মার্চ অভিযান চালান। পরে উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে আশাশুনিতে বদলী করা হয়। এ সময় মামুন হত্যা মামলার তদন্তভার পান তদন্ত ওসি তরিকুল ইসলাম। তৎকালিন পুলিশ সুপার মোল্লা জাহাঙ্গীরের নির্দেশনা অনুযায়ি ২৮ মার্চ সকাল ১১টা থেকে ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ওসি আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ অহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এরপর ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল তদন্ত ওসি তরিকুলের নেতৃত্বে পিএসআই শাহীনসহ পুলিশ আবারো বাড়িতে অভিযান চালায়।

৭ এপ্রিল সর্বশেষ অভিযানে বিষয়টি অহিদুল জানতে পেরে দুপুর আড়াইটার দিকে কৌশলে পালাতে যেয়ে আটক হয়। এ সময় তাকে মামুন ও শাহীন হত্যা, নাশকতাসহ ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠানো হয়। জেলখানায় যেয়ে অহিদুলের সঙ্গে পরিচয় হয় কুচপুকুর জামতলার সিরাজুল হত্যা মামলার আসামীদের সঙ্গে। তারা অহিদুলকে জামিন করিয়ে দেওয়ার শর্তে আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নজরুলকে ও তার ভাইপো কবীরকে হত্যার দায়িত্ব নেয় বলে সূত্রটি দাবি করে। এরপর জামিনে বেরিয়ে ধুলিহর সাহেববাড়ির মোড় থেকে ব্রহ্মরাজপুর ফাঁড়ির আইসি শরীফ নিয়াজী তাকে আটক আবারো নাশকতা মামলায় জেল হাজতে পাঠায়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিন পর কবীর রাজারবাগান ঋষিপাড়ার ভাড়া বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়। এর কয়েকদিন পর পুরাতন সাতক্ষীরা থেকে স্থানীয় জনতা অহিদুলকে আটক করে স্থানীয় ফাঁড়ির ইনচার্জ সেলিম রেজার কাছে সোপর্দ করে। তাকে থানা হাজতে নিয়ে আসার পরপরই তৎকালিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখের সঙ্গে বিশেষ লেনদেনের মাধ্যমে কবীর হত্যা মামলায় চালান না দিয়ে একটি নাশকতা মামলায় চালান দেওয়া হয়।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার কয়েকদিন পর নাশকতার পরিকল্পনাকালে নিজ বাড়ি থেকে অহিদকে আটক করেন ব্রহ্মরাজুপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অচিন্ত কুমার সাহা। এবারও কবীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে অহিদকে একটি নাশকতার মামলায় চালান দেওয়া হয়।

সূত্রমতে, এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে সে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করে দু’বার। অবশেষে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই হাজামপাড়া মোড়ে নজরুল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়। এরপর অহিদ যশোর নওয়াপাড়ার খেয়াঘাটের বিপরীতে মামা শ্বশুরের বাড়িত অবস্থান করাকালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। তখন সে চলে যায় শ্যামনগরের বড়কুপোট এলাকায়। সেখানে সুন্দরবনের একটি জলদস্যু বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। সুন্দরবনে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অহিদ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়াতে অবস্থান করতো। এরপর সে পরিস্থিতি বুঝে শ্যামনগরে ফিরে আসে।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে ভারতে যাওয়ার সময় দেবহাটা সীমান্তের একটি মসজিদের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাকে আটক করা হয়। তাকে গোপন স্থানে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাড়াগাছি বটতলার পাশে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অহিদ মারা যায়। সেখান থেকে লাশ তুলে নিয়ে চেলারডাঙা তারক ঘোষের আমবাগানে ফেলে রাখা হয়। পুলিশ ওই আমবাগান থেকে অহিদের লাশ উদ্ধার করে বলে দাবি করে। দু’টি সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষে অহিদ মারা গেছে বলে পুলিশ দাবি করে। তবে অহিদ শালের দাউদ ডাকাত হত্যাসহ কমপক্ষে ৬টি হত্যা মামলা ছাড়াও দু’ডজনের বেশি মামলা রয়েছে অহিদুলের বিরুদ্ধে।

এদিকে নিহতের স্ত্রী পারুল খাতুন বলেন, দু’সপ্তাহ আগে পুলিশ তাকে, তার মেঝ মেয়ে ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া খাতুন, বড় জামাতা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার সাইফুল্লাহ ও ছোট মেয়ে মিহিরীমাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে চারদিন গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে আটক রাখে। তাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশ তার স্বামীকে ধরতে বাড়িতে বিশেষ নজরদারি বসায়। বিগত ঈদুল আযহার চারদিন আগে অহিদুল বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। ভারতে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার ভোরে দেবহাটা সীমান্ত থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার সকালে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য রাবেয়া খাতুনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, চেলরাডাঙ্গা তারক ঘোষের আমবাগানে অহিদুলের লাশ পাওয়া গেছে। তাকে সাড়াগাছির একটি বটতলার পাশে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে কয়েকজনের মুখে শুনেছেন। পরে সেখান থেকে লাশ সরানো হয় তারক ঘোষের আমবাগানে।
তবে সাতক্ষীরা সদরের কুচপুকুর বড় জামতলার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে লাভলী খাতুন বলেন, তার ভাই কবীর, চাচা নজরুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামী অহিদ।
এদিকে পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৭-০৩-২০২০ তারিখ রাত্র ১.৩৫ টার সময় সাতক্ষীরা সদর থানাধীন ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নি:) মো. হেদায়েত হোসেন সংগীয় ফোর্সসহ রাত্রীকালীন টহল ডিউটি করছিলেন।

এমন সময় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সংবাদ দেন ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারডাঙ্গী গ্রামে আশাশুনি-সাতক্ষীরা রোডের পাকা রাস্তা হতে ৫০ গজ পশ্চিমে জনৈক তারক ঘোষের আম বাগানে তুমুল গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ঘটনাটি অফিসার ইন-চার্জ, সাতক্ষীরা থানাকে জানান। অফিসার ইন-চার্জ, সাতক্ষীরা থানা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল মির্জা সালাউদ্দিনকে জানান। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল মির্জা সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. আসাদুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ, জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মো. মহিদুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (নি:) হারান চন্দ্র পাল ও পুলিশ পরিদর্শক (নি:) মুহম্মাদ জহিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত্র ১.৫৫ টার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একজন ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ দেখতে পায়। তারা মৃত দেহের আশপাশে তল্লাশী করে ১টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটারগান, ২ রাউন্ড গুলি ও একটি ছোরা পেয়ে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা করেন। স্থানীয় লোকজন ও গ্রাম পুলিশ গুলিবিদ্ধ লাশকে সন্ত্রাসী মো. অহেদ আলী গাজী (৪৩), পিতা-মৃত নোবাত আলী, সাং-ধুলিহর, থানা ও জেলা-সাতক্ষীরা বলে সনাক্ত করে। সন্ত্রাসী অহেদ একজন পেশাদার ভাড়াটিয়া খুনী ছিলেন। সন্ত্রাসী অহেদ আলী গাজী আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল হত্যা মামলা ও ছাত্রলীগ নেতা মামুন হত্যা মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২টি অস্ত্র আইন, ২টি হত্যা এবং ২টি অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা মামলাসহ মোট ৬টি মামলা আছে। সদর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করত: ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯