বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
জিয়াউল হক জিয়া :: বরিশালের বাকেরগঞ্জের ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের শতাধিক পরিবারের প্রায় ২সহাস্রধিক মানুষের বসবাস। বসতিদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর। আর্থিক অভাব-অনটনে জর্জরিত ওইবসতিরা পড়েছে প্রাণঝুঁকিতে। অনাহার-অর্ধাহারে কোনো রকমের দিন কাটলেও রাত কাটে নির্ঘুম।
এক কথায়নদীভাঙন আতঙ্কে ভূতরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকাজুড়ে। নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তির আর্তনাদশুরু হয়েছে ভুক্তভোগী দুর্গত বসতিদের মধ্যে।
রাজগঞ্জ-পায়রা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ ও ১৫০টি বসতঘরনদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তোড়ে ওই গ্রামের আরো দুটি মসজিদ, একটিবিদ্যালয় ও শতাধিক বসতঘর ভাঙ্গনে বিলীনের পথে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীরগ্রাসে।উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খান আসাদ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান,দুর্গতদের তালিকা তৈরি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেইযথাযথ পদক্ষেপ নিবেন- এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডেনদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অব্যাহত নদী ভাঙনে গৃহহীন হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। দোকান, ঘর-বাড়ি হারিয়েঅন্যত্র আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে মানুষ। সুধীমহল মনে করছেন, ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন, বেড়িবাঁধ নির্মাণসহদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে পরি¯ি’তি বেসামাল হয়ে পড়বে।ভাঙনের শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।এতে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধথাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দুধলমৌ বায়তুন আমিন জামেমসজিদ ও ওয়াহিদিয়া জামে মসজিদ যেকোনো মুহূর্তে নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ গোলাম মোস্তফা তুহিন সিকদার বলেন, আমার ১০ একর জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েগেছে। তিনি দাবি করেন, তাদের সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা দেয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে বাপ-দাদারভিটামাটি ছেড়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। পারিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টক্লেশে দিনাতিপাত করার কথা জানানতিনি।সহায়-সম্বল হারানো আতাহার সিকদার বলেন, নদীভাঙনে আমার সবকিছু হারিয়ে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। খোলা আকাশের নিচে ঝুপরির মধ্যে তার বসবাস। সূত্রমতে, ভয়াবহ নদীভাঙনে আতাহার সিকদারের মতোআমজেদ হাওলাদার, সেকেন্দার হাওলাদার, আশ্রাব আলী শিকদার, শাহজাহান শিকদার, সাফিয়া বেগম, কবির শিকদার,সাহেব আলী হাওলাদার, ইউসুফ মোল্লা, খলিল হাওলাদার, সালাম হাওলাদার, পরীভানু, জাকির হাওলাদার, তরিকুল ইসলাম ওহারুন চৌকিদারসহ সহাস্রধিক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। ‘নদীভাঙন’ নামক অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্যসরকারের নিকট স্থায়ী সমাধান দাবী করেন ভুক্তভোগীরা।পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, তিনি এখনও এ বিষয়ে অবগত নন।তবে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তিনি আশা করেন যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে উর্দ্ধতনকর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।