মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি :: প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ’র আদর্শ ও সততা অনুসরনীয় আর অনুকরনীয় ছিলো। তিনি ছিলেন ব্যক্তি জীবনে এক সৎ ও ভালো মানুষ। গতকাল বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের উদ্যোগে প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ’র ২য় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
তারা বলেন, তাকে কখনো-কোনদিন কেউ ভূলতে পারেব না। তিনি
এই হাসপাতালের একজন অন্যতম অভিভাবক ছিলেন। তাই সারা জীবন তার নাম স্মরণ করবেন এই হাসপাতালের সকলে। রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ গোলাম মাহমুদ সেলিম, রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরমিন আক্তার, পরিচালক ডাঃ ইকবালুর রহমান ও এ্যাড. লস্কর নূরুল হক, নির্বাহী পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ ছেলে ফারহান সাদিক দুরন্ত তার পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামানা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ’র স্ত্রী মহসিনা শহীদ। পরে প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ’র আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৮ সালের ৯ মার্চ পিতা একেএম হাসমত আলীর কবরেই চীর নিন্দ্রায় শায়িত হন বরিশালের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ব্যাবসায়ী প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ। ওই দিন বাদ জুম্মা নগরীর জিলা স্কুল মাঠ ও বাদ আছার দক্ষিণ আলেকান্দা জামে মসজিদে পৃথক জানাযা নামাজ এবং রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ও সর্বস্থরের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সন্ধ্যায় নগরীর আঞ্জুমান-ই হেমায়েত উদ্দিন মুসলিম গোরস্থানে এই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার
ইউনাইটেড হাসপাতালে চিৎকিসাধীন অবস্থায় সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট
ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রকৌশলী শহীদুল
আলম শহীদ ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে রাহাত
আনোয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ৪ মার্চ সকালে। ওই দিন রাতেই লঞ্চ যোগে তিনি
ঢাকায় পৌছে ইউনাইটেট হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালের ২৭ মে প্রকৌশলী শহীদুল আলম
শহীদ মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচর¯’ বিদ্যানন্দনপুরে একেএম হাসমত আলী ও জাহান আরা বেগম’র
সংসারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন। কিশোর বয়সেই ১৯৭১’র মহান
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন শহীদুল আলম শহীদ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি
বরিশাল জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক অতিবাহিত করেন। এরপর বরিশাল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে
ইঞ্জিনিয়ারিং লেখা পড়া সম্পন্ন করেন। তবে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন নি।
মেধা আর বিচক্ষণতায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে বরিশাল নগরীতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সাবেক
সফল মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরন’র
গনিষ্ঠজন বা বন্ধু ছিলেন প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ। একই সাথে তার ব্যবসায়ীক পার্টনারও
ছিলেন তিনি। শিক্ষানুরাগী প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে
আলেকান্দা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯
সালের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কমিটির মেয়াদ ছিলো। দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন
করে তিনি ওই বিদ্যালয়টির আমুল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আলেকান্দা বালিকা মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের পাশৃাপাশি তিনি ছিলেন মেহেন্দিগঞ্জের বিদ্যানন্দনপুর মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও
সভাপতি। এছাড়া একাধিক মসজিদ মাদ্রাসা উন্নয়নে ছিলো তার অংশ গ্রহন। এর পাশাপাশি
সমাজসেবা মূলককাজে তার অংশ গ্রহন ছিলো অতুলনিয়। প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের রোগী কল্যান সমিতি, বরিশাল ডায়াবেটিস সমিতি, আঞ্জুমান-ই
হেমায়েত উদ্দিন’র সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির
দায়িত্ব পালন করে বরিশাল ক্লাব লিমিটেড’র ব্যাপক উন্নয়ন করে ছিলেন তিনি। ব্যবসায়ী
হিসেব বরিশালের সাউথ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক (প্রাঃ) লিমিটেড’র বিভিন্ন সময়
পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে ব্যবসায়ী ভাবে অংশদারদের মনজয় করতে সক্ষম
হন প্রকৌশলী শহীদুল আলম শহীদ। সব শেষ তিনি সময় কাটাতেন বরিশালের বন্দরোড রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে। তার দিক নির্দেশনায় এই হাসপাতালটি অল্প সময়ের মধ্যে বরিশালসহ
দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।