মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :: বরগুনার আমতলী উপজেলা সাব রেজিষ্টার অফিসে চলছে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য কলম বিরতি। দলিল রেজিষ্ট্রি না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। দলিল রেজিষ্ট্রি বন্ধ থাকায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
স্থানীয় দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, আমতলী উপজেলা সাবরেজিষ্টার অফিসে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ টির মত দলিল রেজিষ্ট্রি হয়ে থাকে। দলিল রেজিষ্ট্রি করনে সাব রেজিষ্টার মোঃ মাসুমের খামখেয়ালীপনা, দলিল লেখকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রতিটি দলিল রেজিষ্ট্রি করনে লাখে ১ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়া, রেজিষ্ট্রি দলিলের সই মোহর উঠাতে পূর্বের ১ হাজার টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ শত টাকা করে আদায় করছেন।
গত ২ বছরে তার অফিস ষ্টাফদের জন্য ঘর তোলার নামে প্রতিটি দলিল রেজিষ্ট্রি করার বিপরীতে দলিল প্রতি ২’শ থেকে ৩’শ টাকা গৃহীতাদের কাছ থেকে আদায় করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি সাবরেজিষ্টার অফিসের পুরাতন কাঠ, টিন ও ইট দিয়ে তার স্টাফদের জন্য ছোট একটি ঘর তুলেছেন। সে ঘর তুলতে সর্বসাকুল্যে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে দলিল লেখকরা জানান। এখনো ঘর উঠানো বাবদ তিনি দলিল প্রতি ১’শ টাকা আদায় করছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ সকল বিষয়ের প্রতিবাদে আমতলী উপজেলা সাবরেজিষ্টার অফিসের প্রায় ৯৫ জন দলিল লেখক গতকাল সোমবার থেকে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য কলম বিরতি পালন করছেন। এ কারনে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর- দূরান্ত থেকে আসা জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা। অপরদিকে জমির রেজিষ্ট্রি বন্ধ থাকায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
দলিল লেখক আবুল বাশার রুমিসহ একাধিক দলিল লেখকরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সাব রেজিষ্টার মোঃ মাসুম আমতলীতে যোগদান করার পর থেকেই তিনি তার ইচ্ছে মাফিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করছেন।
কোন দলিল লেখক এর প্রতিবাদ করলে তিনি তার লেখা দলিল রেজিষ্ট্রি করেননা ও দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ২ বছরে তার অফিস ষ্টাফদের জন্য ঘর তোলার নামে প্রতিটি দলিল রেজিষ্ট্রি করার বিপরীতে দলিল প্রতি ২’শ থেকে ৩’শ টাকা করে গৃহিতাদের কাছ থেকে আদায় করে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এখনো ঘর উঠানো বাবদ গৃহীতাদের কাছ থেকে দলিল প্রতি ১’শ টাকা আদায় করছেন সাব রেজিষ্টার মোঃ মাসুম।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সাব রেজিষ্টার মোঃ মাসুম মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দলিল লেখকদের জাল পর্চা দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি না করার কারনে আমার উপড় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা হঠাৎ অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য কলম বিরতি শুরু করছেন।
তিনি আরো বলেন, গত দুই বছরে যে সকল দলিল লেখক জাল পর্চা তৈরী করে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করার চেষ্টা করেছেন তার সমস্ত প্রমান আমার কাছে আছে। অফিস ষ্টাফদের ঘর তোলার জন্য আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা উঠাইনি ও তা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই উঠে না।