রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আমানত হিসেবে রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন ‘ঢাপরকাঠী কৃষি সমবায় সমিতির’ সভাপতি প্রতারক নিজাম উদ্দিন খাঁ। আমানত হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক গ্রাহক।
সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর যাবত ঢাপরকাঠী ও আশেপাশের এলাকায় শতকরা ১০-১২ টাকা হারে ‘ঢাপরকাঠী কৃষি সমবায় সমিতির’ আড়ালে সুদি ব্যবসা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন খাঁ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ঢাপরকাঠী গ্রামের লতিফ খানের পুত্র। প্রতিষ্ঠানটির সহ-সভাপতি নিজামের আপন বড় ভাই মাসুদ খান, ক্যাশিয়ার হচ্ছে নিজামের আপন চাচাত ভাই সুমন খান। এই চক্রটি ঢাপরকাঠীর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) বিপুল সংখ্যক অবৈধভাবে জমি দখল করে অফিস ঘর তৈরি করে অনৈতিক এবং অসামাজিক কার্যক্রম করে আসছে। এমনকি এখানে এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়ে প্রকাশ্যে মাদকের হাট বসছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমিতির ঘরে অসামাজিক কার্যক্রম চলে বিধায় সন্ধ্যার পড়ে এই সমিতির সামনে দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে না বলে এলাকার লোকজন জানান।
ভুক্তভোগী এলাকার কেউ নিজাম উদ্দিন খাঁ ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করছে না। কেউ তার অনৈতিক, অসামাজিক কার্যক্রম, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তার বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে নির্যাতন করে যাচ্ছে। এরকমের একজন ৫০ উর্ধ্বের ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, তাকে দুই বার নিজাম ও তার লোকজন শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। ঢাপরকাঠীতে নিজাম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
ঢাপরকাঠী কৃষি সমবায় সমিতির সদস্য রহিমা বেগম বলেন, খেয়ে না খেয়ে নিজামের কাছে সঞ্চয় করেছি ৪০ হাজার টাকার উপরে। এখন টাকা চাইলে আমার টাকা দেয় না। উল্টো আমাকে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। কার কাছে বিচার পাই না। আল্লাহর কাছে বিচার দিছি।
সমিতির সদস্য শহীদ খান ও ইউনুস খান বলেন, আমরা ৩ বছর মেয়াদী ডিপিএস করেছি ৩ বছর শেষ হয়ে ৬ বছর হলেও কোন টাকা ফেরত দেয় না। নিজাম বলে দিছে টাকা চাইতে গেলে ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে ধরাইয়া দিবে। সমিতির সদস্য নুরুল ইসলাম হাওলাদার, আয়ুব আলি তালুকদার, রেজাউল করিম হাওলাদার সাংবাদিক দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন আমরা গরীব, আমাদের টাকা ওরা ক্ষমতা দিয়ে মেরে দিছে। আপনারা আমাদের টাকাটা উঠাইয়া দেন। আপনাগো জন্য আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে দোয়া করুম।
সমিতির কার্যালয়ে আমরা গেলে কার্যালয়টি বন্ধ পাই। এলাকায় খোঁজ নিয়ে নিজামের বাড়ি গেলে নিজামের মা আমাদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং কোন সংবাদ করা হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তাদের হাত অনেক লম্বা বলেও জানান। তিনি এও বলেন, প্রশাসনের লোক মাসিক হারে মোটা টাকা আমাদের কাছ থেকে নেয়। তোমরা পারলে আমাদের কিছু করে দেখিও। নিজাম উদ্দিন খান ও তার ক্যাডার বাহিনী প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এমন অন্যায়, অসামাজিক, অনৈতিক কর্মকা- করলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে প্রশাসন মুখ বুঝে আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। নিজাম উদ্দিন সমিতির টাকা নিয়ে উদাও হয়েছে এ কথা শোনার পর থেকেই সমিতির সদস্যরা নিজামের বাড়িতে গেলে সদস্যদেরকে নিজামের মা ও নিজামের ক্যাডার বাহিনী হুমকি দি”েছ বলে সদস্যরা অভিযোগ করেছে। ঢাপরকাঠীতে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাপরকাঠী কৃষি সমবায় সমিতির প্রতারণার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রিয়াদ খানের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আইন অনুযায়ী এই ধরণের কার্যক্রম করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনি। এই প্রতিষ্ঠানটি বেআইনি কার্যক্রম করে যা”েছ বিধায় আমরা এইমধ্যেই এই সমিতিটিকে কালো তালিকা ভুক্ত করে এদের নিবন্ধন বাতিলের জন্য বরিশাল জেলা সমবায় অফিসে লিখিত আঁকারে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।পুলিশ এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।