মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে (৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন ও পুরনো সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালেয়র কেন্দ্রের সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকরা। বাংলা ১ম পত্রে সর্বশেষ সেশনের পরীক্ষার্থীকে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্ন আর পুরনো সেশনের পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরিক্ষার শেষে বাহিরে বের হয়ে একে অপরের প্রশ্ন দেখে ভুল ধড়া পরতে থাকে তখনই সবাই এক সাথে সিলেবাস মিলাতে থাকে। তখন দেখা যায় কেউ কেউ নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন পেয়েছে আবার কারো হাতে ১৮ সালের পুরােনা সিলেবাসের প্রশ্ন ভুল বুঝতে পেরে প্রধান শিক্ষকে জানালে নতুন ও পুরানো প্রশ্নগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে দ্রুত ফটো কপির কথা বলে নিয়ে যায় পুলিশ পরিচয়ের এক লােক।
তবে পুরােনা সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের ফলাফল কি হবে? তাদের তো নতুন সিলেবাসের পরিক্ষা দেওয়া সুযোগ দেয়া হয়নি। এরফলে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের এমন ভুলের কারণে কম নম্বর পাবে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এর যৌক্তিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। আসলে বরিশাল বোর্ডের দুইটি প্রশ্নেই পরীক্ষার এমসিকিউ অংশের প্রশ্নে লেখা রয়েছে ১০১৮/২০২০ সালের সিলেবাস অনুযায়ী।
নতুন পুরনো মিলিয়ে বাংলা প্রথম পত্রের দুই ধরণের পরীক্ষার্থী ছিলো। ২০২০ সালের সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ২০১৮ সালের সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরা। অন্যান্য বারের মত এবারও ফেল করা ও ইম্প্রুভমেন্ট এর জন্য অনেক পুরনো পরীক্ষার্থী আবার পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদের এক সিলেবাসে যেসব গল্প-কবিতা আছে, অন্য সিলেবাসে তার বেশ কয়েকটি গল্প-কবিতা বাদ দিয়ে নতুন গল্প-কবিতা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে এক সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের সাথে অন্য সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের অনেক প্রশ্নে মিল ছিলো না। এব্যাপারে শিক্ষা বোর্ড পরিক্ষার আগে কেন্দ্র সচিবদের সতর্ক করে নি। যাহার কারনে অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে নতুন ও পুরান যথযথভাবে অনুসরণ করতে পারেননি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা। তারা না বুঝে এক সিলেবাসের পরীক্ষার্থীকে অন্য সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়েছেন। এরফলে অনেক পরীক্ষার্থী সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।
তবে হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান বলেন, এই ধরনের ভুল হয়েছে কিছু সংখক ছাত্রীদের বেলায়। তিনি বলেন, এতে শিক্ষাথীদের কােন ক্ষতি হবে না আমি চেয়ারম্যান সারকে বলিছি সে এখানে এসে শিক্ষাথীদের সাথে কথা বলেছেন। এতে কেউ ফেল করিবে না।
বরিশাল হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পুরনো ভুল সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস প্রতিনিধিকে বলেন এর জবাব দেয়ার সময় আমার নেই। তিনি আরো বলেন, আমি দেশের বাহিরে ওই ব্যপারে আমি কিছু সুনতে চাই না।
কবির হোসেন নামের একজন অভিভাবক বলেন, হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যায়ের কেন্দ্রে দুপুর একটায় এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও পরীক্ষার্থীরা বের না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উৎকন্ঠা দেখা দেয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এরপর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যায়ের কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘একটু সমস্যা হয়েছে, এখনই পরীক্ষার্থীরা বের হবে।’ কী সমস্যা জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য না করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেনে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ।
তিনি আরও জানান, পুরানো প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে দুইজন পরীক্ষার্থী কান্নাকরা অবস্থায় দেখা যায় তাদের কাছে পরিক্ষার বিষয় জানতে চাওয়া হলে ভুল প্রশ্ন তাদের দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
আরেকজন অভিভাবক সুফিয়া বেগম জানান, গতবছর যারা পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে কিন্তু এবার ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের সিলেবাস আগের বছরের। আর এবছরের যারা পরীক্ষার্থী তাদের নতুন সিলেবাস। কিন্তু আমার মেয়ে নতুন বছরের পরিক্ষাথী তাকে দিয়েছেন পুরান সিলেবাসের প্রশ্ন। সেখানের অনেক প্রশ্ন কমন পরেনি তাই পরিক্ষার ফলাফল নিয়ে টেনশন ফেল করিছ।
আরেকজন অভিভাবক ফাতেমা বেগম জানান, তার মেয়ে ফেল করা পুরান শিক্ষার্থী কিন্তু বাংলা প্রথম পত্রের নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়া হয় তাকে। সেখানে অনেক প্রশ্ন কমন পড়েনি। বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শককে জানালে সবাই একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে বলে জানান তিনি। একারনে ওই পরীক্ষার্থী ৩০ নম্বরের প্রশ্ন ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়।