রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে মোবাইল চুরির অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় সুনামগঞ্জের শামীম আহমদ (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) ১০টার দিকে ধারন বাজারের উত্তরে বেত বাগানে এ ঘটনাটি ঘটে।
শামীম উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারন বাজার সংলগ্ন সৈদেরগাঁও গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে।
জানা গেছে, স্থানীয় জিল্লু মিয়ার চায়ের দোকানের কর্মচারী ছিল শামীম। গত মঙ্গলবার সেখানে একজনের মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। স্থানীয়রা মালিক জিল্লু মিয়ার নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে গত শুক্রবার সালিশ ডাকে। সালিশের আগের দিন বৃহস্পতিবার গ্রাম্য কবিরাজের কাছে তদবিরের কথা বলে কিশোরকে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে নির্জন একটি মাঠে হাত পা বেঁধে, কাপড় ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। তারপর একটি পরিত্যক্ত কক্ষে হাত পা বাঁধা অবস্থায় রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিচ্ছে একটি বিশেষ মহল। একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কিশোরের বাবা আবদুর নুর থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
অভিযোগ, দোকান মালিক জিল্লু মিয়া আবদুর নুরের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামা চাপা দিচ্ছে। নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ভয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ শামীমের পরিবার।
শামীমের বাবা বলেন, আমরা অসহায় মানুষ। স্থানীয়রা মালিক জিল্লু মিয়ার নিকট থেকে আগে ১০ হাজার টাকা ও এখন আরও ৫০ হাজার টাকা সিকিউরিটি নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সালিশ হবে।
জিল্লু মিয়া সালিশ ও টাকার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি যেভাবে বলা হচ্ছে সেভাবে নয়।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।