মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি :: নওগাঁর পত্নীতলায় যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস (২০) বর্তমানে পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌসের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চক শ্রীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ও ধামইরহাট উপজেলার ধামইরহাট ফাজিল মাদরাসার দাখিল শাখার গণিতের সহকারী শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বিয়ে হয় চলতি বছরের ১৫ জুলাই।
বিয়ের পর থেকেই শরিফুল ইসলাম ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে দূরব্যবহার করে আসছিলেন। স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া জন্য সম্মত হলেও শরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার রাজি হয়নি। এনিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মো. শরিফুল ইসলাম তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করেন। পরে জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন।
আহত জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বললে তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী পেটের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার জন্য আমাকে বার বার চাপ দিচ্ছে। পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, আহত জান্নাতুল ফেরদৌসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড জাতীয় ধারাল কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন দেখা গেছে। রোগীর পেটের সন্তান সুস্থ আছে বলেও তিনি জানান।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবতী জানান, এই বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।