ইমাম বিমান : ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে দরবার শরীফের আধিপত্য বিস্তারিতকে কেন্দ্র করে সজলকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় সজলের ভাই ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। গতকাল (৫ ডিসেম্বর) রাতে নিহত সজলের বড় ভাই মাহফুজ দেওয়ান বাদী হয়ে নলছিটির মালিপুর কাদেরিয়া দরবার শরীফের বর্তমান পীর মাও: আনোয়ার হোসেন দেওয়ানের পুত্র একিন দেওয়ানকে প্রধান আসামী উল্লেখ করে পীর আনোয়ার দেওয়ানের দুই ভাই আবুল দেওয়ান ও আরিফ দেওয়ান, ফুফাতো ভাই ওসমান দেওয়ান, ওই দরবারের পাহারাদার ও সব সময়ে অবস্থানকারী মিন্টু ও তৈয়ব আলী সহ আরো ২/৩ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয় মামলার বাদী মাহফুজ দেওয়ান জানান, আমার পিতা মরহুম আমীর হোসেন দেওয়ান ছিলেন ওই দরবারের পীর। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার তিন চাচা মাও: আনোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন ও আরিফ বিল্লাহ দরবারের একচ্ছত্র দখল নিয়েছে। এতে পীর পুত্র হিসেবে আমি ও আমার ভাই প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর কয়েকবার হামলা চালায় ও হত্যার চেষ্টা করে। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালালে গ্রামবাসী ৫ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর আমাকে হত্যা করতে না পেরে ছোট ভাই সজল দেওয়ানকে পরিকল্পিতভাবে রাতের আধাঁরে তার শয়ন কক্ষে জবাই করে হত্যা করে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, দরবারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাদ বিরাজমান থাকতো। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সজল তার চাচা বর্তমান পীর মাও: আনোয়ার হোসেন দেওয়ানকে কুপিয়ে মারাত্নক জখম করে। এতে সজলকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বেশ কিছুদিন পূর্বে উক্ত মামলা থেকে সজল দেওয়ান আদালত থেকে জামিনে বের হয়।
জামিনে থাকা সজলকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কেউ কেউ বলাবলি করছে সজল জবাই হওয়ার আগের দিন তার নিজ হাতে “দা” নিয়ে পুকুরের পাঁকা ঘাটলায় ঘসে ধার দিয়েছে এ কারনে কেউ কেউ মনে করছে সে নিজেই নিজের গলা কেটে আত্নহত্যা করেছে। আবার কেউ বলছে, বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে,দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকায় তৃতীয় পক্ষও ওই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে সজলকে যে কক্ষে জবাই করে হত্যা হয় তার সম্মুখে পীর আনোয়ার হোসেন দেওয়ানের বিল্ডিংয়ের সম্মুখে তিনটি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ থেকেও হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।