মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক: নদী খনন, পাইপ লাইনের বদলে নৌযানে জ্বালানি তেল সরবরাহ, মাস্টার/ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় দুর্নীতি ও সনদ উত্তোলনে হয়রানি বন্ধ করা, মার্চেন্ট শিপের অনভিজ্ঞ সনদধারীদের অভ্যান্তরীণ নৌ-পথে নিয়োগ বন্ধ করা, শ্রমিকদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, ওভারলোড নিষিদ্ধ করা, পর্যাপ্ত মুরিং বয়ার ব্যবস্থা করা, নৌ শ্রমিকদের ছুটি, বিশ্রাগার ও চিকিৎসার দাবিতে আকষ্মিকভাবে ধর্মঘট ডেকেছে জাতীয় শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও শ্রমিক লীগ। তাদের ডাকা আকস্মিক ধর্মঘটে রাজধানীর সদর ঘাট থেকে দক্ষিণ জনপদের সব গন্তব্যে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম ভূঁইয়া এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
বিআডব্লিইউটিএ-এর পরিবহন পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বুধবার সকাল ৮টার দিকে গ্রিনলাইনের লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া আর কোনো লঞ্চ সকাল থেকে ছাড়েনি।
তবে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের পেছনে মালিকদের উসকানি দেখছে।
ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, “১১ দফা দাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে আমাদের ধর্মঘট শুরু করার কর্মসূচি রয়েছে। মালিকদের উসকানিতে তাদের পৃষ্ঠপোষক শ্রমিকরা আমাদের ধর্মঘটকে নষ্ট করার জন্য এই ধর্মঘট ডেকেছে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য মোহাম্মদ রিন্টু বলেন, “জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বারবার অহেতুক ধর্মঘট ডাকে। তাই আমাদের সভাপতি বিদেশ থেকে এলে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেব। এখন যারা ধর্মঘট ডেকেছে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”
জাতীয় শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও শ্রমিক লীগের এই কর্মবিরতি চলছে ১৫ দফা দাবিতে।
বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মাহবুব উল আলম বলেন, সদরঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে না। দেশের অন্যান্য স্থান থেকে লঞ্চ শ্রমিকদের কর্মবিরতির কোনো খবর তার জানা নেই।
সরেজমিনে সদরঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাদঁপুর ও শরিয়তপুরের যাত্রীরা সকালে লঞ্চ টার্মিনালে এসে বিপাকে পড়েছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, শ্রমিক সংগঠন কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়া লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখায় শত শত যাত্রী টার্মিনালে আটকা পড়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুর রহমান পটল জানান, আমরা এই অবৈধ সংঘঠনে ডাকা ধর্মঘট মানি না। আজ বিকেল পাঁচটা থেকে ঢাকা চাদঁপুর ও বরিশালসহ দেশের ৩৩টি নৌরুট থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু করবে।