বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম, পিতার নাম মিল রেখে আমতলী উপজেলার চন্দ্রা গ্রামের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আট বছর ধরে ভাতা উত্তোলন এবং আত্মসাৎ করার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজর রহমান মোল্লার বড় মেয়ে মোসা. লাইলী বেগম।
আজ শনিবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে লাইলী বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, তার পিতা মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা হিসেবে ৭২৭ নং গেটের ১৫০৮৬৪ নং সাময়িক সনদ পত্র ধারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী গ্রামে বসবাসকৃত তার পিতা ২০০৭ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কলাপাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ভাতা উত্তোলন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি রাঙ্গাবালী উপজেলার যুগীর হাওয়া গ্রামের তাসলীমা বেগম নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানে বসবাস করতেন।
তিনি বলেন, আমার মাতা মোসা আম্বিয়া বেগম, অপর একমাত্র ভাই মতিউর রহমানসহ কলাপাড়ায় বসবাস করতেন। পরবর্তীতে জমি জমা সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি হয়ে পটুয়াখালী জেল হাজতে থাকা অবস্থায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজর রহমান মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গলাচিপা সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলনের জন্য পটুয়াখালী জেল সুপারের কাছে আবেদন করেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২১/বি নং বইর মাধ্যমে সেখান থেকে ভাতা উত্তোলনের জন্য কলাপাড়া সোনালী ব্যাংক পরিবর্তন করে গলাচিপা সোনালী ব্যাংক থেকে ভাতা উত্তোলন করতেন। এরপর জেলহাযতে থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর থেকে পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ষড়যন্ত্র করে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের মৃত করিম মাতুব্বরের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান মাতুব্বরকে কাগজ পত্র জাল জালিয়াতি করে নাম এবং পিতার নাম একই থাকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়ে ভাতা উত্তোলন শুরু করে একটি চক্র। গত আট বছর ধরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজুর রহমান মাতুব্বর ভাতা উত্তোলন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙিয়ে তার সন্তানদের চাকুরিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. হাফিজুর রহমান মাতুব্বর অনুসন্ধান ২৪ ফােরক বলেন, ১৯৬৫ সাল থেকে যুদ্ধ চলাকালীন সময় কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের মামা মেনাজ উদ্দিন মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান করে লেখাপাড়া করেন। সে সময় এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। তখন দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। এ সময় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব তালুকদারের সঙ্গে কলাপাড়ায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ২০০৬ সাল থেকে আমি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই। আমার গেজেট নম্বর ৭২৭। ২০১২ সালে কথিত হাফিজুর রহমান রাঙ্গাবালী ২০০২ সালে জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাতিয়াতি কেসের অভিযুক্ত হয়ে টাকা এবং ঢেউটিন উত্তোলন করে। সেই মামলার ফেরারি আসামি ছিলো। ২০১২ সালে আমার এবং তার মুক্তিযোদ্ধার সনদ জেলা কমান্ডার আ. বারেক এবং জেলা প্রশাসক যাচাই বাছাই করে রাঙ্গাবালী হাফিজুর রহমান মোল্লার সনদ জাল প্রমাণিত করে ২০১২ সালের আগস্ট মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে। জাল জালিয়াতের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ওই বছরের ১০ আগস্ট মাসে তার মৃত্যু হয়। ২০১২ সালে আগস্ট মাসের ১২ তারিখ তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নামে কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের ফাঁসি পাড়া গ্রামে মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা নামের কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না বলে প্রমাণিত হয় এবং উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামে ওই নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না।
জালজালিয়াতির বিষয় কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. বদিউর রহমান বন্টিন কালের কণ্ঠকে বলেন, মো. হাফিজর রহমান মোল্লা তিনি সঠিক ব্যক্তি নন। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় সনদ জাল করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন বলে আমি নিশ্চিত। এ বিষয়ে বহুবার সালিস বৈঠকেও তা প্রমাণিত হয়েছে।
তবে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এস রাকিবুল আহসান অনুসন্ধান ২৪ ফােরক বলেন, আমি এবং মো. হাফিজুর রহমান মাতুব্বর সহপাঠি। আমার জানা মতে তিনি আসল মুক্তিযোদ্ধা। মৃত মো. হাফিজুর রহমান মোল্লাকে আমি স্মরণে আনতে পারছি না।
এদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজর রহমান মোল্লার নাম পরিবর্তন করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজর রহমান মাতুব্বরের নাম অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই বাছাইয়ের জন্য মোসা. লাইলী বেগম সাংবাদিক সম্মেলনে আবেদন করেন করেন।