রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশালে ফরচুন সু লিঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ছদ্মবেশী নারী দাঁড় করিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দলিল বাতিলের দাবি সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ বরিশাল সদরের চরকরজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র!
ফরিদপুরে ৩ সন্তানের সংবাদ সম্মেলন, বাবার নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে

ফরিদপুরে ৩ সন্তানের সংবাদ সম্মেলন, বাবার নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে

ফরিদপুর প্রতিনিধি :: ফরিদপুরে বাবার নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিন ভাই-বোন। অভিযোগ, এ নির্যাতনে সহযোগিতা করছে মাগুরার গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
খাদ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক শিকদার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার দুই পুত্র বরকত আল আজাদ ও রহমত আল আজাদ এবং মেয়ে তাসনিম ফারজানা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাসনিম ফারজানা। উপস্থিত ছিলেন তার দুই ভাই বরকত আল আজাদ ও রহমত আল আজাদ।

বক্তব্যে তাসনিম ফারজানা বলেন, তাদের বাবা সিকদার আবুল কালাম আজাদ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খাদ্য অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক পরিচালক। ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট তাদের মা মাহমুদা বেগম মারা যান। মৃত্যুকালীন সময়ে তার মা নানাবাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরে অনেক সহায়-সম্পত্তি রেখে গেছেন। বর্তমানে ওই সম্পত্তির মালিক তারা তিন ভাই-বোন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, তাদের নামে মায়ের সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেয়ার জন্য তাদের বাবা নানাভাবে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ চক্রান্তের ধারবাহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর তাদের বাবা জরুরি আলোচনার কথা বলে দুই ভাইকে কোটচাঁদপুরে ডেকে আনেন। পরে মাগুরার গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় দুই ভাইকে আটকে রাখা হয় মাগুরার হাজিপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। পরে গত ১৮ অক্টোবর তারা মাদকাসক্ত না হওয়া সত্ত্বেও মাগুরা ডিবি পুলিশের সহায়তায় ফরিদপুর শহরের আলীপুরে রওশন খাঁ সড়কে অবস্থিত লাইফ কেয়ার মাসকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রেখে যান।

তিনি বলেন, তার বাবা ও মাগুরার পুলিশ সুপার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশ দুই ভাইকে গ্রেফতারের সময় বলেছিল, তারা হত্যা মামলার আসামি। মামালা রয়েছে আলফাডাঙ্গা থানায়। পরে মাগুরার পুলিশ সুপার তাকে বলেন, মাগুরার শ্রীপুর থানায় তাদের নামে মামলা রয়েছে মাদকের।

তিনি বলেন, তিনি শ্রীপুর থানায় গিয়ে যোগাযোগ করলে শ্রীপুর থানার ওসি জানান, ওই থানায় ওই দুই ভাইয়ের নামে কোনো মামলা নেই।

তাসনিম ফারজানা বলেন, তিনি তার দুই ভাইয়ের সন্ধান না পেয়ে ২৬ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে তিনি এ ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। গত ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট একটি রুলনিশি জারি করেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রুলনিশির কথা শুনে তার বাবা দুই ছেলেকে তার জিম্মায় নেয়ার জন্য মাগুরা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লাইফ কেয়ার মাসকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আসেন। কিন্তু তার দুই ভাই যেতে অস্বীকার করলে ডিবি পুলিশের সহায়তায় বাবা তার দুই ভাইকে জোর করে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। তখন নিরাময় কেন্দ্র থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে তার বাবাসহ মাগুরার ডিবি পুলিশ সদস্যরা চলে যান।

লাইফ কেয়ার মাসকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক হাফিজুর রহমান ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তার নিরাময় কেন্দ্রে সংগঠিত ঘটনার বর্ণানা দিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডিবি পুলিশ এসে প্রথমে তাদের নিরাময় কেন্দ্রের সকল সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। পরে দুই ভাইয়ের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তারা জোর করে দুই ভাইকে কেন্দ্র থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় ধস্তাধস্তি ও ভাংচুরের কারণে দুই ভাই আহত হন। এপর্যায়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দুই ভাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে কোতয়ালী থানার পুলিশ ওই নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে মাগুরার ডিবি পুলিশকে দেখতে পান। তারা জানায়, তারা সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ওই দুই ভাইকে নিতে এসেছেন এবং এ বিষয়টি দুই জেলার পুলিশ সুপার অবগত।

এসআই বেলাল বলেন, আমি যখন জানতে পারলাম যে, এ ব্যাপারে হাইকোর্টের রুলনিশি রয়েছে তখন আমি মাগুরার ডিবি পুলিশদের বলি, এ অবস্থায় দুই ভাইকে এ কেন্দ্র থেকে নেয়া যাবে না।

হাইকোর্টে দায়ের করা মামলর বাদী বোন তাসনিম ফারজানা। এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বাবাসহ সাতজনকে। তারা হলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, আইজিপি, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার, নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক, বাবা সিকদার আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি।

গত ১৪ নভেম্বর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো: মাহমুদ হাসান এ ব্যাপারে রুলনিশিটি জারি করেন।

বাদী পক্ষের কৌশলী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আদনান রফিক হাইকোর্টের দেয়া রুলনিশি সম্পর্কে বলেন, হাইকোর্ট ওই দুই ভাইয়ের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আটক কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে কারণ জানতে চেয়ে উল্লেখিত সাতজনের প্রতি রুল জারি করেন। পাশাপাশি দুই ভাই সুস্থ হয়ে থাকলে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

মাগুরার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ওই দুই ভাই মাদকসেবী। তাদের নামে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা হয়। এজন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে ওদের বাবা অনুরোধে তাদের মাদকনিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য মাগুরার ডিবি পুলিশ তাদের ফরিদপুর নিয়ে যায়। গত ২০ নভেম্বর ওই নিরাময় কেন্দ্রে বাবার নেতৃত্বে মাগুরার ডিবি পুলিশের হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। পরে বলেন, দুই ছেলের বাবা সাহায্য চাইলে ডিবি পুলিশ সাহায্য করতে যেতে পারেন।

এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ডিবি পুলিশ পুলিশ সুপারের অনুমতি ছাড়া যেতে পারে কিনা জানতে চাওয়া হলে পুলিশ সুপার বলেন, আপনি সঠিক কথা বলেছেন, তবে কথা হলো আমি তো ওইদিন একটি অনুষ্ঠানের জন্য খুলনায় গিয়েছিলাম। তাই এ বিষয়ে ওই দুই ভাইয়ের বাবাই ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে তিন ভাইবোনের বাবা সিকদার আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনে শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত একাধিকর ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯