মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি :: বরিশাল এয়ারপোট থানা আওয়াতাধীন কাশিপুর হাই স্কুল-কলেজ এর পূর্ব পাশে তালহা কম্পিউটার দোকানে বসে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পদে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দোকানকে প্রতারক চক্রের সদস্যরা জেএসএস কোম্পানি বরিশাল বিভাগীয় অফিস পরিচয় দিয়ে থাকেন। ব্যাংকে সিকিউর্টি পদে চাকরি দেওয়ার নামে চল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রের দুজনকে মানবাধিকার কর্মীরা এয়ারপোর্ট থানার এস আই ইলিয়াজকে খবর দিয়ে ধড়িয়ে দেন। প্রতারক চক্রের কাউকে গ্রেফতার করেনি থানা পুলিশ। এমনকি মানবাধিকার কর্মীরা থানায় গিয়ে ওসিকে জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তিনি। প্রতারক চক্রেরা নিজেদের সাবেক এক মন্ত্রীর ভাই, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন।
গত ৪/১১/১৯ইং তারিখ বিকেলে কাশিপুর হাই স্কুল-কলেজের পূর্ব পাশে তালহা কম্পিউটার দোকানে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য আলি আকবার ও দোকান মালিক জামালের কাছে বিভিন্ন পদে ভুয়া নিয়োগপত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কাউনিয়া থানা শাখার সাধারন সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রতারক চক্ররা হলেন, বরিশাল কাশিপুর এলাকার অবসর প্রাপ্ত ট্রাফিকপুলিশ আলি আকবর, কুদ্দুস হোসেন, কম্পিউটার দোকানের মালিক জামালসহ ৩৫ জন। ২৯ নং ওয়ার্ডের পাইকারি কাশেমের ছেলে জামাল (৩০) ওই কম্পিউটার দোকানের তৈরি হয় ভুয়া নিয়োগপত্রের ডকুমেন্ট।
মানবতাবাদী আনোয়ার হোসেন বলেন, পটুয়াখালী উপজেলার দশমিনা থানার গছানি গ্রামের বাদশাহ হাওলাদারের ছেলে মো. ফয়সাল নামে প্রতারণার শিকার এক চাকরি প্রত্যাশীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই দুই প্রতারককে কাশিপুর হাই স্কুল-কলেজ সামনে তালহা কম্পিউটার দোকানের মালিক জামালসহ দুই জনকে স্থানীয় লোকের সহায়তা পুলিশের কাছে ধড়িয়ে দেয়া হয়। গোপন কথায় পুলিশ প্রতারক চক্রের সদস্যদের ছেড়ে দেয়।
মানবাধিকার কর্মী জানান, প্রতারক আলি আকবার ও জামাল নিজেদেরকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকেন। চলতি বছর পানি উন্নায়ন বোর্ড পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রতারক চক্রের সদস্যরা মুলাদির মৃত্যু ইমাম হোসেনের ছেলে সুমনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন সময়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সুমনের পরিবার প্রতারণার বিষয়টি পরে বুঝতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে গত ১০ অক্টোবর বরিশাল জেলা মানবাধিকার কমিশনে মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর বরিশাল জেলা মানবাধিকার কমিশনের কাউনিয়া থানা শাখার সাধারন সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মানবাধিকারের একটি দল চক্রটির পিছু নেয়।
কাউনিয়া থানার সাধারন সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মূলত সরকারের বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করাই তাদের কাজ।
তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।