রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের পলাশপুর অঞ্চলে রেড ক্রিসেন্ট নেত্রীকে বারবার গণধর্ষণের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে সচেতন এলাকাবাসী। একটি
ভিডিও বক্তব্যতে বেবী অভিযোগ করে বলেছেন মোস্তফাসহ চারজন নিয়মিত তাকে গণধর্ষণ করেন। ” জিডি নং ৩৮১ (২০১৮ সালের) তে অভিযোগ করা হয় মোস্তফা হাওলাদার, নাসির (বিএনপির নাসির) , আনোয়ার, মালেক সহ বেশ কিছু লোকজন অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনা করে বেবী বেগমের জমি জোরপূর্বক ভরাট করে এবং প্রতিবাদ করলে খুন,জখম, ক্ষতি করার হুমকি দেয়। ”
এরপর বেবীকে এই গ্রুপ জোরপূর্বক বারবার গোপনে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেছেন বেবী। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর সহ মহানগর আ’লীগ নেতার সহধর্মিণীর কাছেও বলে তেমন প্রতিকার পাননি তিনি। এর কারন হিসেবে বেবী জানান, ধর্ষণ, গণধর্ষণের সময় উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে এবং মাদক ব্যাবসায়ী মোস্তফা গ্রুপের লোকজনের ঘুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে সংশ্লিষ্টদের বড় একটা অংশ। যদিও স্থানীয় থানার ওসি আনোয়ার তাকে যথেষ্ট সাধ্যমত সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন বেবী।
বেবী বলেন ” আমি প্রায় রোজই ধর্ষণের শিকার হয়েছি টানা কয়েকমাস। সম্প্রতি এরা আবারও গণধর্ষণ করে আমাকে মেডিকেলে পাঠিয়েছে। জরায়ুর সমস্যা ঘটে গেছে বলে জানায় কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে কৌশলে এরা ঘটনার সময় আমার মেয়েকে ঘরের বাইরে জোরপূর্বক আটকে রাখে, আর তারা দলসহ কাজ করে ঘরের মধ্যে।
এই সেই কুখ্যাত মাদক কারবারি মোস্তফা, যে মসজিদের মুসল্লীদের মদ পান করে মারধর করে মসজিদে লাথি মেরেছিল বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এরপর মোটা অঙ্কের বিনিময়ে এবিষয়টি সাময়িক ধামাচাপা দেয় মোস্তফা।
১০ এপ্রিল, ২০১৭ এ খবরের কাগজগুলোতে ছাপা প্রতিবেদন অনুয়ায়ী ” পলাশপুর এলাকায় তাবলিগ জামাতের লোজনকে মদ পান করে মারধর ও মসজিদে লাথি দেয়াকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন একটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় ও ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটকে ৪৮ ঘন্টার সময় বেধে দিয়েছেন মুসুল্লীরা। সোমবার (১০ এপ্রিল ২০১৭) সন্ধ্যা ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। মুসল্লীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে ৭নং পলাশপুর রজনীগন্ধা জামে মসজিদে অবস্থান করছেন ঢাকা থেকে আগত তাবলিগ জামাতের সদস্যরা। রোববার দুপুরে তারা মসজিদের মধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পলাশপুর এলাকার বাসীন্দা মাদক ব্যবসায়ী ও কাউনিয়া কমিউনিটি পুলিশিং‘র সদস্য গোলাম মোস্তফা রোববার বিকেল ৪টার দিকে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় মসজিদের সামনে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। বার বাস মুসুল্লীরা বাধা দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। এক মুসুল্লী মসজিদের গেট আটকে দিলে তাতে লাথি মারেন মোস্তফা। এতে মুসুল্লীরা ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। গোলাম মোস্তফার সাথে ওই এলাকার নাসির নামেও এক ব্যক্তি ছিলো। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবারের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। কিন্তু সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় এলাকার মুসুল্লীরা বৈঠক বসেন। বৈঠক চলাকালে কে বা কারা সেখানে কয়েকটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এর পর পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার সহযোগী নাসিরের বসতঘর ভাংচুর করে। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় একটি দৈনিকের ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যান। এছাড়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানার তদান্ত ওসি সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসুল্লীদের কাছ থেকে ৪৮ ঘন্টার সময় নেন মোস্তফা ও তার সহযোগী নাসিরকে গ্রেপ্তারের জন্য। পুলিশের এমন আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাইনুল হক বলেন, ঢাকা থেকে আগত তাবলিগ জামাতের কয়েকজন সদস্য রজনীগন্ধা মসজিদে অবস্থান করছেন। রোববার মোস্তফা মাতাল অবস্থায় মসজিদের সামনে গিয়ে মুসুল্লীদের গালাগাল করেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সোমবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি ঘরে হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। কাউনিয়া থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, মোস্তফা কমিউনিটি পুলিশিং‘র সদস্য। রোববার সে মসজিদের মুসুল্লীদের গালাগাল করায় একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছিলো। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
মসজিদে লাথি মারার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন তিনি।