আজ বরিশাল চক বাজার সংলগ্ন পেঁয়াজ পট্টিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান সরকার ও মনীষা আহমেদ। অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষন পরে ব্যাবসায়ীরা বাড়িয়ে দিলো আবারও পেয়াজের দাম। বাজারে পেয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কমছে না পেঁয়াজের দাম।
তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের বাজারে তেমন নজরদারি দেখা না গেলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। অবস্থা এমন যে, বাজার থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পেঁয়াজ’। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বরিশালের পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন ভূমিকা না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্রেতারা। গতকাল বুধবার সরজমিনে বরিশাল নগরে পাইকারী ও খুচরা বাজারগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
নগরের প্রত্যেকটা বাজারেই দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি ধরে। অথচ এক মাস আগেই দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসন থেকে মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। সবজি কিনতে আসা ফিরোজ নামের এক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কম সময়ের মধ্যে যেভাবে পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম বাড়ছে তাতে বাজার করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। কারণ যেভাবে সবজির দাম বাড়ছে সেভাবে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরেক ক্রেতা বলেন, যারা সিন্ডিকেট করে সবজিসহ পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উচিৎত। এভাবে বাড়তে থাকলে সবকিছু সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। নগরের পলাশপুর এলাকার রিক্সা চালক কবির বলেন,ভাই সারা দিন রিক্সা চালিয়ে ২শ’ থেকে ৩ শ’ টাকা আয় করতে খুব কষ্ট হয়। যা আয় করি তা দিয়ে সন্তানদের জন্য বাজার করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরে রান্না করে। আজ আয় করছি ২ শ’ টাকা।
কিন্তু আধা কেজি পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ৫৫ টাকায়। তিনি আরো বলেন, ১১০ টাকা কেজিতে যদি পেয়াজ কিনতে হয়। তাহলে আমার মত গরীবের না খেয়ে মরতে হবে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ সারা দেশে পেয়াজের দাম বেশি নেওয়ায় প্রশাসনের অভিযান চলছে দেখা টিভিতে। কিন্তু আমাদের বরিশালে পেয়াজ ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনঅভিযান না চলানোর কারনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমার মত দিন খেঁটে খাওয়া মানুষের।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। বেশি দামে কিনলে বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। কম দামে কিনতে পারলে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। অন্য দিকে লক্ষ্য করা গেছে,নগরের পেয়াজপট্টি’র প্রতিটি আড়ৎ মালিকরা দাম একটু বেড়েছে শুনেই তারা পেয়াজ স্টোক করে রেখেছে গোডাউনে।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেন, বিষটি অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম বাজার মনিটরিং এ কাজ করছে।

