বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেক্স : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে মজুদকৃত বিপুল সংখ্যক ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের চতুর্থ তলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের স্টোরে রোগীদের না দিয়ে মজুদকৃত ওইসব সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ।
যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সাইজের সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, নরমাল স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক ইনজেক্সন। তবে এর মধ্যে মজুদকৃত ইনজেকশন ও ক্যানুলার পরিমান বেশি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।
এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ই মে হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণি স্টফ কোয়ার্টারের পুকুরে ভাসমান এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সেফালী বেগম এর বাসা থেকে বিপুর পরিমান চোরাই ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ফিমেল (মহিলা) মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মজুদকৃত চোরাই ওষুধ জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় ওয়ার্ডটির ইনচার্জ বিলকিছ বেগম, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সেফালী বেগম ও তার ছেলে আল মামুন মুছা আটক হয়।
এদের বিরুদ্ধে ওষুধ চুরির ঘটনায় মামলা চলমান ছাড়াও নার্স বিলকিছ বেগম ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সেফালী বেগম সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। আর চুরির ঘটনার সাথে যুক্ত আল মামুন মুছা’র নতুন করে হাসপাতালে সরকারিভাবে চাকুরি পেয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ‘রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি’র খোঁজ খবর নিতে সকালে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান পরিচালক।
এসময় তিনি হাসপাতালের নার্সিং ডিউটি রুমের মধ্যে থাকা স্টোর পরিদর্শনকালে বিপুল পরিমান ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা তল্লাশী এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে রোগীদের ওষুধ না দিয়ে তা মজুদ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পাশাপাশি ওইসব ওষুধ উদ্ধার করেন।
সরকারি ওষুধ উদ্ধার অভিযান শেষে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি তিন মাস পর পর ওয়ার্ড গুলোর স্টোর ভিজিট করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ঝামেলার কারনে বিগত তিন মাস ধরে স্টোরগুলো ভিজিট করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালে ফিমেল (মহিলা) মেডিসিন ওয়ার্ড ভিজিট করতে গিয়ে মজুদকৃত ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী কিছু বেশি মনে হয়েছে। দদএগুলোর তালিকা করে আপাতত জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ওষুধ ইন্ডেন এর তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। সেখানে কোন গড় মিল থেকে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বরিশাল ক্রাইমের সূত্রমতে